অসহায়-দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তরুণদের মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলায় উৎসাহ এবং সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করার প্রত্যয়
রাজনীতির বাইরেও মানুষের পাশে নাফিউল আজম জুয়েল
- আপডেট সময় : ১১:৫৯:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে

নদীভাঙন, দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও সামাজিক নানা সংকটে জর্জরিত কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা নাফিউল আজম জুয়েল। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে অসহায় মানুষের দুঃসময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া, দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে সামাজিক ও ক্রীড়ামুখী কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে মানবিক ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।
চর রাজিবপুর উপজেলা ভৌগোলিকভাবেই নদীনির্ভর ও দুর্গম। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, উপজেলাটি কুড়িগ্রাম জেলার মূল ভূখণ্ড থেকে নদীপথে বিচ্ছিন্ন এবং ১৯৮৩ সালে তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়। ফলে নদীভাঙন ও যোগাযোগসংকট এখানকার মানুষের জীবনযাত্রায় দীর্ঘদিনের বাস্তবতা।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র ও জুয়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, অসহায়-দরিদ্র মানুষের মধ্যে ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি বিপদগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি। অর্থের অভাবে কোনো দরিদ্র পরিবারের মেয়ের বিয়ে আটকে গেলে সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহযোগিতা করার উদ্যোগও নেন বলে জানা গেছে।
দারিদ্র্যের কারণে একটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবন যখন থমকে যায়, তখন সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়ানোকে সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে দেখেন নাফিউল আজম জুয়েল। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের বিয়ে, জরুরি পারিবারিক সংকট এবং বিভিন্ন মানবিক প্রয়োজনে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছেন তিনি।
তার ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য, মানুষের সমস্যাকে শুধু রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক বিষয় হিসেবে না দেখে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার চেষ্টা করেন জুয়েল। কোনো পরিবার বিপদে পড়লে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়াই তার অন্যতম লক্ষ্য।
রাজিবপুরের তরুণ সমাজকে ঘিরেও জুয়েলের রয়েছে আলাদা ভাবনা। মাদক থেকে যুব সমাজকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে তরুণদের যুক্ত করার চেষ্টা করছেন তিনি।
রাজিবপুরে তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত খেলাধুলার সুযোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আগে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও কথা বলেছেন নাফিউল আজম জুয়েল। একটি প্রতিবেদনে তিনি এলাকায় খেলার মাঠের অভাবের কথা তুলে ধরে তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে মাঠের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
তার মতে, একজন তরুণকে মাদক থেকে দূরে রাখা মানে শুধু একজন ব্যক্তিকে বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষা করা নয়; এর মাধ্যমে একটি পরিবার ও সমাজকেও সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে রক্ষা করা যায়।
রাজিবপুরে মাদক প্রতিরোধ ও সামাজিক সচেতনতার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও গুরুত্ব পেয়েছে। ২০২৫ সালে রাজিবপুরে পুলিশের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ওপেন হাউস ডে-তে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ বন্ধ, নারী নির্যাতন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
তরুণদের মাদকমুক্ত রাখার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও সামাজিক সচেতনতা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন জুয়েল। পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক সংকটের কারণে অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।
তার উদ্যোগের মূল ভাবনা—শুধু তাৎক্ষণিক সহযোগিতা নয়, মানুষের জীবনযাত্রার দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে সমাধানের পথ তৈরি করা।
রাজিবপুরের মানুষের অন্যতম বড় দুর্ভোগ নদীভাঙন। ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার বহু বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে দীর্ঘ সময়ের নদীভাঙনে দুই উপজেলার বহু মৌজা বিলীন হওয়ার তথ্যও তুলে ধরা হয়।
এ ধরনের বাস্তবতায় রাস্তাঘাট, সেতু ও স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থার সমস্যাও মানুষের দৈনন্দিন দুর্ভোগ বাড়ায়। এসব সমস্যা সমাধানে স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন জুয়েল।
রাজিবপুরে নদীভাঙনের ঝুঁকি শুধু অতীতের বিষয় নয়; সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনের খবর প্রকাশিত হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মানুষের সুখের সময়ে পাশে থাকার মানুষ অনেক থাকলেও দুর্দিনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক কম। তাদের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করার ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “সুখের সময় পাশে থাকার মানুষ অনেক, কিন্তু বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানোর মানুষই আসল আপনজন।”
স্থানীয়দের দাবি, নাফিউল আজম জুয়েল শুধু মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন নয়, রাজিবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেন। এ কারণে স্থানীয় পর্যায়ে তার প্রতি একটি ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
নাফিউল আজম জুয়েলের স্বপ্ন শুধু তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মানুষের সমস্যার সমাধান করা নয়। তিনি চান কর্মসংস্থান বাড়ুক, তরুণরা মাদক থেকে দূরে থাকুক, বাল্যবিবাহ কমুক এবং নদীভাঙন ও যোগাযোগসংকটে থাকা মানুষগুলো প্রয়োজনীয় সহায়তা পাক।
তার ভাবনায় উন্নত রাজিবপুর মানে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়; মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, তরুণদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সংস্কৃতিও উন্নয়নের অংশ।
রাজিবপুরের মতো নদীভাঙনপ্রবণ জনপদে মানুষের ছোট ছোট প্রয়োজনের পাশে দাঁড়ানোও অনেক সময় বড় আশার কারণ হয়ে ওঠে। সেই মানবিকতার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান নাফিউল আজম জুয়েল।
রাজনীতির পরিচয় তার একটি পরিচয় হতে পারে; তবে মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা তার জন্য তৈরি করছে আরেকটি পরিচয়—‘মানবিক জুয়েল’।














