সকাল ৬টা-৭টার মধ্যে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকা এবং রাত ৮টা-৯টার মধ্যে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জে ফিরতি ট্রেন চান যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা
গোপালগঞ্জ-ঢাকা ট্রেনের সময় পরিবর্তনের দাবি, সকালে ঢাকা ও রাতে ফেরার আহ্বান
- আপডেট সময় : ০৩:০৯:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে

গোপালগঞ্জ, ১৭ আগস্ট ২০২৬: গোপালগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনা করে গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে চলাচলকারী ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেনের সময়সূচি পুনর্বিবেচনার দাবি উঠেছে। যাত্রীদের দাবি, বর্তমান সময়সূচি চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ীসহ নিয়মিত যাত্রীদের জন্য আরও সুবিধাজনক করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ রেলওয়ে ১০ আগস্ট ২০২৬ থেকে ঢাকা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে ১৩৫/১৩৬ নম্বর ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেন চালু করেছে। রেলওয়ের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ঢাকা থেকে ট্রেনটি বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে গোপালগঞ্জে পৌঁছায়। পরে গোপালগঞ্জ থেকে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে রাত ১০টা ২৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধ শনিবার।
তবে স্থানীয় যাত্রীদের একটি অংশ মনে করছেন, সকাল ও রাতের সময়সূচিতে ট্রেন পরিচালনা করা হলে এ রুটের সেবা আরও কার্যকর হবে। তাদের প্রস্তাব, গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে একটি ট্রেন ছাড়ার ব্যবস্থা করা হোক। একইভাবে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে ফিরতি ট্রেন চালু করা হলে যাত্রীদের জন্য তা বেশি সুবিধাজনক হবে।
যাত্রীদের মতে, সকালে গোপালগঞ্জ থেকে ট্রেনে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলে চাকরিজীবীরা অফিসের কাজ, শিক্ষার্থীরা শিক্ষা-সংক্রান্ত প্রয়োজন, রোগীরা চিকিৎসা এবং সাধারণ মানুষ সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত ও অন্যান্য জরুরি কাজ একই দিনে সম্পন্ন করার সুযোগ পাবেন। এরপর রাতে ঢাকায় থেকে গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে ফিরতি ট্রেনে যাত্রা করা সম্ভব হলে ঢাকায় রাতযাপনের অতিরিক্ত খরচ ও সময়ও কমবে।
বর্তমান সময়সূচিতে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ট্রেনটি সন্ধ্যায় ছাড়ার কারণে সকালে ঢাকায় পৌঁছে দিনের কাজ শেষ করে একই দিনে গোপালগঞ্জে ফেরার সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। ফলে যেসব মানুষ একদিনের প্রয়োজনেই রাজধানীতে যেতে চান, তাদের জন্য সময়সূচিটি পুরোপুরি উপযোগী হচ্ছে না বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
বিশেষ করে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, রোগী ও তাদের স্বজন এবং বিভিন্ন জরুরি কাজে ঢাকায় যাতায়াতকারী মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে ট্রেনের সময়সূচি পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে গোপালগঞ্জের ব্যবসায়ীরাও ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন নিয়ে পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, গোপালগঞ্জে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার হওয়ায় ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন এমনভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন, যাতে ব্যবসায়ীরা ঢাকায় গিয়ে পাইকারি বাজার বা প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করে সহজে গোপালগঞ্জে ফিরতে পারেন।
তবে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকাশিত বর্তমান সূচি অনুযায়ী, ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ শনিবারই নির্ধারিত রয়েছে। তাই ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী সময়সূচি ও সাপ্তাহিক বন্ধের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন করে পর্যালোচনার দাবি উঠেছে।
নতুন ট্রেনটি চালুর ফলে ঢাকা ও গোপালগঞ্জের মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ আরও সহজ হয়েছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানিয়েছে, নতুন কমিউটার ট্রেন চালুর ফলে গোপালগঞ্জসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ ও দ্রুত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
গোপালগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা—সময়োপযোগী ট্রেনসূচি, সহজ যাতায়াত এবং মানুষের ভোগান্তির অবসান। তাদের দাবি, যাত্রীদের বাস্তব প্রয়োজন, কর্মঘণ্টা, ব্যবসায়ীদের সাপ্তাহিক কার্যক্রম এবং রোগীদের চিকিৎসা-সুবিধা বিবেচনা করে গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটের ট্রেনের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা হোক।
দাবি একটাই—গোপালগঞ্জ-ঢাকা ট্রেনের সময়সূচি যাত্রীবান্ধব করা হোক এবং সাপ্তাহিক বন্ধের দিনও যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের সুবিধা বিবেচনায় পুনর্মূল্যায়ন করা হোক।














