মা মাছ সংরক্ষণ ও অবৈধ মাছ শিকার বন্ধের আহ্বান; খাঁচায় মাছ পালন ও বিক্রিতে সফল দুইজনকে পুরস্কার
ফরিদপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষের বর্ণাঢ্য র্যালি, পুরস্কৃত দুই মাছচাষি
- আপডেট সময় : ০৫:৫৩:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

“রূপালি মৎস্য, স্বনির্ভর দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে জাতীয় মৎস্য পক্ষের র্যালিটি বের হয়। উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে র্যালিটি উপজেলা হলরুমে গিয়ে শেষ হয়।
পরে উপজেলা হলরুমে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা-সিরাজগঞ্জ সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানা রুমা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. জহুরুল ইসলাম বকুল, সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আলহাজ্ব আব্দুদ দাইয়ান মঞ্জু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আঃ হাকিম খান এবং সাবেক সদস্য সচিব মো. জিয়াউর রহমান জিয়া।
এ সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং মৎস্যচাষিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে মৎস্য খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মৎস্যসম্পদের সুরক্ষা ও টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বক্তারা মা মাছ সংরক্ষণ, অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধ, নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার প্রতিরোধ এবং প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে স্থানীয় জনগণকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষে সভাপতিত্ব করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা সুলতানা।
তিনি বলেন, “মা মাছ ধরব না, দেশের ক্ষতি করব না।”
মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সরকারি আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মৎস্যচাষি, জেলে ও সাধারণ মানুষেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
আলোচনা সভা শেষে খাঁচায় মাছ পালন ও মাছ বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ত সফল দুইজনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে আধুনিক মাছ চাষে আগ্রহী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি নিরাপদ মৎস্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পরিকল্পিতভাবে মৎস্যচাষ সম্প্রসারণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মৎস্যসম্পদের যথাযথ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে এ খাতের অবদান আরও বাড়ানো সম্ভব।
তারা জাতীয় মৎস্য পক্ষের কর্মসূচির মাধ্যমে মৎস্যচাষি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরাপদ মাছ উৎপাদন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।














