মাউশির তদন্তে অনিয়মের তথ্য পাওয়ার দাবি; নিয়োগ, শিক্ষক উপস্থিতি, দায়িত্ব বণ্টন ও আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন
রায়গঞ্জ ডিগ্রি কলেজে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের ভাতা স্থগিত
- আপডেট সময় : ০২:২৭:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রাম, নাগেশ্বরী | ১৩ আগস্ট ২০২৬: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ডিগ্রি কলেজে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান, শিক্ষক উপস্থিতি এবং কলেজের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তদন্তে অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আখেররুজ্জামানের মাসিক ভাতা স্থগিত করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
রায়গঞ্জ ডিগ্রি কলেজটি নাগেশ্বরী উপজেলার একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারি বিভিন্ন নথিতে তালিকাভুক্ত রয়েছে। শিক্ষা-সংক্রান্ত অনলাইন তথ্যেও প্রতিষ্ঠানটির নাম ও নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম ঠিকানা পাওয়া যায়।
কলেজের কয়েকটি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধি ও নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রবিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যা ও লাইব্রেরিয়ান সায়েন্স বিষয়ে কর্মরত তিনজন প্রভাষকের নিয়মিত উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষক নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকেও দীর্ঘ সময় ধরে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে হাজিরা খাতা, বেতন-ভাতা সংক্রান্ত নথি, নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত যাচাই করা প্রয়োজন।
জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে পাশ কাটিয়ে আখেররুজ্জামানকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত বিধিবিধান, জ্যেষ্ঠতা তালিকা এবং দায়িত্ব প্রদানের আদেশ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—তা নিয়েই মূলত প্রশ্ন উঠেছে।
কলেজের বিভিন্ন খাত থেকে আয়, ব্যয় এবং অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কলেজের আয়-ব্যয়ের হিসাব, ব্যাংক লেনদেন, ভাউচার এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে এ অভিযোগের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
অভিযোগকারীদের দাবি, তদন্তে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট নথিসহ প্রকাশ করা হলে কলেজের প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অভিযোগগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে মাউশির তদন্তে কলেজের নিয়োগ প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। এরপর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আখেররুজ্জামানের মাসিক ভাতা স্থগিত করা হয়েছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
তবে ভাতা স্থগিতের সুনির্দিষ্ট কারণ, আদেশের তারিখ, স্মারক নম্বর এবং তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের বিষয়ে প্রকাশ্য সরকারি নথি এই প্রতিবেদনের প্রস্তুতিকালে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি আদেশ ও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ বা যাচাই করা প্রয়োজন।
কলেজসংশ্লিষ্ট কয়েকজনের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ, উপস্থিতি, প্রশাসনিক দায়িত্ব বণ্টন এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব অবশ্যই স্বচ্ছ ও বিধিসম্মত হওয়া উচিত। কোনো অভিযোগ থাকলে তা নিয়ে পক্ষপাতহীন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বের করে আনা প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা না মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও পরিষ্কারভাবে খণ্ডন করা প্রয়োজন।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আখেররুজ্জামান এবং অভিযোগে উল্লিখিত তিন প্রভাষকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
কলেজসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, মাউশির তদন্ত প্রতিবেদন, ভাতা স্থগিতের আদেশ, নিয়োগসংক্রান্ত নথি, দায়িত্ব প্রদানের আদেশ এবং আয়-ব্যয়ের সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই ও প্রকাশের মাধ্যমে রায়গঞ্জ ডিগ্রি কলেজকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের প্রকৃত চিত্র পরিষ্কার হবে।
উল্লেখ্য, সরকারি শিক্ষা-সংক্রান্ত অনলাইন নথিতে রায়গঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অবস্থান নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।














