চট্টগ্রাম ০৯:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আধুনিক সকল ফিচার যুক্ত  জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া দৈনিক সারাদেশ ৭১  নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের আবেদনের  জন্য অপেক্ষমান দেশের অন্যতম প্রথম সারির অনলাইন পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য সংবাদদাতা আবশ্যক, বিশেষ সংবাদদাতা (৪),  ক্রাইম রিপোর্টার (৫), স্টাফ রিপোর্টার (১০), বিভাগীয় ব্যুরো (৩) উপজেলা প্রতিনিধি (১০), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (৪),  মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার (সকল জেলা ও উপজেলার জন্য) (১০) ইউনিয়ন প্রতিনিধি (৫)  আবেদনের জন্য সিভি, জাতীয় পরিচয় পত্র, আবেদন পাঠাবেন saradesh71@gmail.com এই মেইলে।
সংবাদ শিরোনামঃ
বেনাপোল সীমান্তে ভারতীয় শাড়ি-কসমেটিক্সসহ ৫ লাখ ৮১ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ ডবলমুরিং-হালিশহরে মাদক, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্যবস্থা চেয়ে আবেদন রংপুরের নতুন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানকে জেলা কংগ্রেসের ফুলেল শুভেচ্ছা রাণীশংকৈলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত, পতাকা উত্তোলন ও বৃক্ষরোপণ দামুড়হুদায় মটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চোরের মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে হরিরামপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতীবান্ধা-পাটগ্রামে বিজিবির পৃথক অভিযান, উদ্ধার ভারতীয় পণ্য নজরুল বর্ষ ঘিরে পীরগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজন বিদ্রোহী কবির চেতনায় উখিয়ায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা

এক বছরে পাসের হার ৯০.২৪% থেকে ২৪.৩৯%; শিক্ষক সংকট, শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্ন—তদন্তের দাবি অভিভাবক-স্থানীয়দের

ঐতিহ্যবাহী ফেকামারায় শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ

এ.এস.এম হামিদ হাসান
  • আপডেট সময় : ১১:০০:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশ ৭১ নিউজ – নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ফেকামারা কামিল মাদ্রাসায় ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রাপ্ত ফলাফল তথ্য অনুযায়ী, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির দাখিল পরীক্ষার পাসের হার ৯০.২৪ শতাংশ থেকে নেমে ২৪.৩৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অনলাইনে পাওয়া ফলাফল-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফেকামারা ফাজিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় ৪১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৩৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছিল। ওই বছর পাসের হার ছিল ৯০.২৪ শতাংশ।

অন্যদিকে, চলতি ২০২৬ সালের ফলাফল সম্পর্কে মাদ্রাসা-সংশ্লিষ্ট প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৪২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪১ জন দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং উত্তীর্ণ হয় মাত্র ১০ জন। সে হিসাবে পাসের হার দাঁড়ায় ২৪.৩৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

কটিয়াদীর ফেকামারা ফাজিল মাদ্রাসা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দ্বীনি ও সাধারণ শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। কটিয়াদী উপজেলা প্রশাসনের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত তথ্যেও প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘ ইতিহাস, বিভিন্ন স্তরে শিক্ষাদান এবং অতীতে সন্তোষজনক পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলের কথা উল্লেখ রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির EIIN 110414। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের নথিতেও ফেকামারা ফাজিল মাদ্রাসার নাম এবং ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার্থীদের নিবন্ধন-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়।

২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি কামিল (স্নাতকোত্তর) স্তরে হাদিস বিভাগ চালুর জন্য প্রাথমিক পাঠদানের অনুমতিও পায়। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ২২ জুলাই পর্যন্ত তিন বছরের জন্য এই অনুমতি দেওয়া হয়। তবে অনুমোদনের সঙ্গে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ, গ্রন্থাগার সমৃদ্ধকরণ, অভ্যন্তরীণ অডিট এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণসহ একাধিক শর্ত দেওয়া হয়েছিল।

ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল কাশেম বিপ্লব পরীক্ষাকেন্দ্র পরিবর্তন, পুরো ব্যাচের দুর্বলতা, শিক্ষক সংকট এবং কয়েকজন শিক্ষকের ছুটিসহ একাধিক বিষয়কে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক চাপ তৈরি হয়েছিল। পাশাপাশি দুইজন শিক্ষক মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা, শিক্ষক সংকট এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিতির বিষয়টিও ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে তিনি মনে করেন।

অধ্যক্ষ আরও জানান, অনেক শিক্ষার্থী আর্থিকভাবে অসচ্ছল। দুপুরের টিফিনের ব্যবস্থা না থাকায় বিরতির সময় কিছু শিক্ষার্থী বাড়িতে চলে যায় এবং পরে আর মাদ্রাসায় ফিরে আসে না।

তবে কেন্দ্র পরিবর্তনকে এককভাবে ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে দেখার আগে শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক ফলাফল, উপস্থিতির হার, শিক্ষক উপস্থিতি, পাঠদানের সময়সূচি ও পূর্ববর্তী কয়েক বছরের ফলাফল বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিবেদনকারীর সরেজমিন অনুসন্ধানে দুপুরের পর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের একটি অংশকে ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে যেতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের দাবি, এ সময় শ্রেণিকক্ষগুলোতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের উপস্থিতিও ছিল কম।

এ নিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, শিক্ষার্থীরা চলে যাওয়ার পর ক্লাস পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। তবে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতির রেকর্ড সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত সময় পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে অভিভাবকদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

বিশেষ করে দাখিল পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে তথ্যভিত্তিক তদন্তের দাবি উঠেছে।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শিক্ষক সংকট এবং কয়েকজন শিক্ষকের ছুটিকে ফলাফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ছুটি বিধিমাফিক অনুমোদিত হয়েছিল কি না এবং ছুটিকালীন বিকল্প পাঠদানের ব্যবস্থা ছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

এ ক্ষেত্রে শিক্ষক উপস্থিতির রেজিস্টার, ছুটির আবেদন ও অনুমোদনপত্র, ক্লাস রুটিন এবং গত এক বছরের পাঠদান কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হতে পারে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও অভিভাবকের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং, মতবিরোধ ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কোনো পক্ষকে দায়ী করা সমীচীন নয়। তবে অভিযোগগুলো যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে এর প্রভাব শিক্ষা কার্যক্রমে পড়ছে কি না, সেটি নিরপেক্ষ তদন্তে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

২০২৫ সালে মাদ্রাসাটির গভর্নিং বডি অনুমোদনের খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। ওই সময় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে সভাপতি মনোনীত করার তথ্য প্রকাশ করে দৈনিক সংগ্রাম।

ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি। সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

তবে অভিভাবকদের দাবি, শুধু কারণ দর্শানোর নোটিশ বা সাময়িক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নয়; ফলাফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। দাবিগুলো হলো—

১. ২০২৬ সালের দাখিল ফলাফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন।

২. শিক্ষকদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা।

৩. শিক্ষার্থীদের ক্লাস ফাঁকি প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি চালু করা।

৪. শিক্ষক-কর্মচারীদের ছুটি বিধিমাফিক অনুমোদিত হয়েছে কি না তা যাচাই করা।

৫. প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, গ্রুপিং ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ তদন্ত করা।

৬. পরিচালনা কমিটিকে আরও সক্রিয় ও জবাবদিহিমূলক করা।

৭. দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফল কোনো একক কারণে খারাপ হয় না। শিক্ষার্থীর প্রস্তুতি, শিক্ষক সংকট, পাঠদানের মান, উপস্থিতি, বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা, অভিভাবকের সহযোগিতা, প্রশাসনিক তদারকি এবং পরীক্ষার পরিবেশ—সবকিছু মিলিয়েই ফলাফল তৈরি হয়।

তাই ফেকামারা কামিল মাদ্রাসার ২০২৬ সালের ফলাফল নিয়ে ওঠা প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে গত তিন থেকে পাঁচ বছরের ফলাফল, বিষয়ভিত্তিক নম্বর, অনুপস্থিতির তথ্য, শিক্ষক উপস্থিতি, ক্লাস রুটিন এবং শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়নের তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালেও দাখিলে ৯০.২৪ শতাংশ পাসের হার অর্জন করেছিল—প্রকাশিত ফলাফল ডেটা তা দেখাচ্ছে। ফলে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার ২৪.৩৯ শতাংশে নেমে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধান শুধু শিক্ষার্থীদের দায়ী করার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক একাডেমিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনার দাবি রাখে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্ত হলে প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে কটিয়াদীর ঐতিহ্যবাহী ফেকামারা কামিল মাদ্রাসা আবারও তার পুরোনো শিক্ষাগত সুনাম ও ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এক বছরে পাসের হার ৯০.২৪% থেকে ২৪.৩৯%; শিক্ষক সংকট, শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্ন—তদন্তের দাবি অভিভাবক-স্থানীয়দের

ঐতিহ্যবাহী ফেকামারায় শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ

আপডেট সময় : ১১:০০:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ফেকামারা কামিল মাদ্রাসায় ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রাপ্ত ফলাফল তথ্য অনুযায়ী, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির দাখিল পরীক্ষার পাসের হার ৯০.২৪ শতাংশ থেকে নেমে ২৪.৩৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অনলাইনে পাওয়া ফলাফল-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফেকামারা ফাজিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় ৪১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৩৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছিল। ওই বছর পাসের হার ছিল ৯০.২৪ শতাংশ।

অন্যদিকে, চলতি ২০২৬ সালের ফলাফল সম্পর্কে মাদ্রাসা-সংশ্লিষ্ট প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৪২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪১ জন দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং উত্তীর্ণ হয় মাত্র ১০ জন। সে হিসাবে পাসের হার দাঁড়ায় ২৪.৩৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

কটিয়াদীর ফেকামারা ফাজিল মাদ্রাসা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দ্বীনি ও সাধারণ শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। কটিয়াদী উপজেলা প্রশাসনের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত তথ্যেও প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘ ইতিহাস, বিভিন্ন স্তরে শিক্ষাদান এবং অতীতে সন্তোষজনক পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলের কথা উল্লেখ রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির EIIN 110414। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের নথিতেও ফেকামারা ফাজিল মাদ্রাসার নাম এবং ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার্থীদের নিবন্ধন-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়।

২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি কামিল (স্নাতকোত্তর) স্তরে হাদিস বিভাগ চালুর জন্য প্রাথমিক পাঠদানের অনুমতিও পায়। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ২২ জুলাই পর্যন্ত তিন বছরের জন্য এই অনুমতি দেওয়া হয়। তবে অনুমোদনের সঙ্গে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ, গ্রন্থাগার সমৃদ্ধকরণ, অভ্যন্তরীণ অডিট এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণসহ একাধিক শর্ত দেওয়া হয়েছিল।

ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল কাশেম বিপ্লব পরীক্ষাকেন্দ্র পরিবর্তন, পুরো ব্যাচের দুর্বলতা, শিক্ষক সংকট এবং কয়েকজন শিক্ষকের ছুটিসহ একাধিক বিষয়কে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক চাপ তৈরি হয়েছিল। পাশাপাশি দুইজন শিক্ষক মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা, শিক্ষক সংকট এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিতির বিষয়টিও ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে তিনি মনে করেন।

অধ্যক্ষ আরও জানান, অনেক শিক্ষার্থী আর্থিকভাবে অসচ্ছল। দুপুরের টিফিনের ব্যবস্থা না থাকায় বিরতির সময় কিছু শিক্ষার্থী বাড়িতে চলে যায় এবং পরে আর মাদ্রাসায় ফিরে আসে না।

তবে কেন্দ্র পরিবর্তনকে এককভাবে ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে দেখার আগে শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক ফলাফল, উপস্থিতির হার, শিক্ষক উপস্থিতি, পাঠদানের সময়সূচি ও পূর্ববর্তী কয়েক বছরের ফলাফল বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিবেদনকারীর সরেজমিন অনুসন্ধানে দুপুরের পর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের একটি অংশকে ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে যেতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের দাবি, এ সময় শ্রেণিকক্ষগুলোতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের উপস্থিতিও ছিল কম।

এ নিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, শিক্ষার্থীরা চলে যাওয়ার পর ক্লাস পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। তবে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতির রেকর্ড সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত সময় পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে অভিভাবকদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

বিশেষ করে দাখিল পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে তথ্যভিত্তিক তদন্তের দাবি উঠেছে।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শিক্ষক সংকট এবং কয়েকজন শিক্ষকের ছুটিকে ফলাফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ছুটি বিধিমাফিক অনুমোদিত হয়েছিল কি না এবং ছুটিকালীন বিকল্প পাঠদানের ব্যবস্থা ছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

এ ক্ষেত্রে শিক্ষক উপস্থিতির রেজিস্টার, ছুটির আবেদন ও অনুমোদনপত্র, ক্লাস রুটিন এবং গত এক বছরের পাঠদান কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হতে পারে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও অভিভাবকের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং, মতবিরোধ ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কোনো পক্ষকে দায়ী করা সমীচীন নয়। তবে অভিযোগগুলো যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে এর প্রভাব শিক্ষা কার্যক্রমে পড়ছে কি না, সেটি নিরপেক্ষ তদন্তে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

২০২৫ সালে মাদ্রাসাটির গভর্নিং বডি অনুমোদনের খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। ওই সময় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে সভাপতি মনোনীত করার তথ্য প্রকাশ করে দৈনিক সংগ্রাম।

ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি। সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

তবে অভিভাবকদের দাবি, শুধু কারণ দর্শানোর নোটিশ বা সাময়িক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নয়; ফলাফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। দাবিগুলো হলো—

১. ২০২৬ সালের দাখিল ফলাফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন।

২. শিক্ষকদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা।

৩. শিক্ষার্থীদের ক্লাস ফাঁকি প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি চালু করা।

৪. শিক্ষক-কর্মচারীদের ছুটি বিধিমাফিক অনুমোদিত হয়েছে কি না তা যাচাই করা।

৫. প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, গ্রুপিং ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ তদন্ত করা।

৬. পরিচালনা কমিটিকে আরও সক্রিয় ও জবাবদিহিমূলক করা।

৭. দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফল কোনো একক কারণে খারাপ হয় না। শিক্ষার্থীর প্রস্তুতি, শিক্ষক সংকট, পাঠদানের মান, উপস্থিতি, বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা, অভিভাবকের সহযোগিতা, প্রশাসনিক তদারকি এবং পরীক্ষার পরিবেশ—সবকিছু মিলিয়েই ফলাফল তৈরি হয়।

তাই ফেকামারা কামিল মাদ্রাসার ২০২৬ সালের ফলাফল নিয়ে ওঠা প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে গত তিন থেকে পাঁচ বছরের ফলাফল, বিষয়ভিত্তিক নম্বর, অনুপস্থিতির তথ্য, শিক্ষক উপস্থিতি, ক্লাস রুটিন এবং শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়নের তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালেও দাখিলে ৯০.২৪ শতাংশ পাসের হার অর্জন করেছিল—প্রকাশিত ফলাফল ডেটা তা দেখাচ্ছে। ফলে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার ২৪.৩৯ শতাংশে নেমে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধান শুধু শিক্ষার্থীদের দায়ী করার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক একাডেমিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনার দাবি রাখে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্ত হলে প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে কটিয়াদীর ঐতিহ্যবাহী ফেকামারা কামিল মাদ্রাসা আবারও তার পুরোনো শিক্ষাগত সুনাম ও ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে।