তবকপুর ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক স্বামী-স্ত্রী; স্ত্রীর অভিযোগে মামলা, আদালতের মাধ্যমে কারাগারে স্বামী
উলিপুরে শিক্ষক দম্পতির বিরোধ: যৌতুকের মামলায় সহকারী শিক্ষক স্বামী গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০৭:২৭:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) | ১১ আগস্ট ২০২৬: কুড়িগ্রামের উলিপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে এনামুল হক সরকার মানিক (৪৫) নামে এক সহকারী শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার এনামুল হক সরকার মানিক উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের তবকপুর ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তার স্ত্রী নাসিমা বেগম (৪১) একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। এ ঘটনায় সোমবার (১০ আগস্ট) উলিপুর থানায় যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করেন নাসিমা বেগম।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে এনামুল হক সরকার মানিকের সঙ্গে নাসিমা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন করা হতো বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২০২২ সালে নাসিমা বেগম আদালতে মামলা করেন। পরে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তি হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে আরও জানা যায়, পরবর্তীতে সংসার স্বাভাবিকভাবে চললেও একপর্যায়ে এনামুল হক পুনরায় ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে স্ত্রীকে নির্যাতন শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়। সংসারের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে নাসিমা বেগম বিষয়গুলো সহ্য করে আসছিলেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৬ আগস্ট বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন মধ্যবিরতির সময় এনামুল হক তার স্ত্রীর কাছে যৌতুকের টাকা দাবি করেন। নাসিমা বেগম টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে চুলের মুঠি ধরে মারধর এবং গলা চেপে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনা দেখে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে নাসিমা বেগমকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা নেওয়ার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে সোমবার থানায় মামলা করেন তিনি।
মামলার পর উলিপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সোমবার রাতেই এনামুল হক সরকার মানিককে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
তবকপুর ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজা বেগম বলেন, এনামুল হক সরকার মানিক ও নাসিমা বেগম স্বামী-স্ত্রী এবং দুজনই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। নাসিমাকে নির্যাতনের অভিযোগে মানিককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে তিনি শুনেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস ফাতিমা তোগদার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। খোঁজ নিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে সোমবার থানায় মামলা হয়। মামলার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে এনামুল হক সরকার মানিককে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। একই বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক দম্পতির পারিবারিক বিরোধ ও মামলার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।














