পাঁচ পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য, পাসের হার শূন্য; ফলাফলের কারণ জানতে বিদ্যালয় পরিদর্শন ও শোকজের সিদ্ধান্ত প্রশাসনের
পাকুন্দিয়ায় ৮ শিক্ষক, ৫ পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করেনি; এসএসসি ফলে শূন্য পাসের হার
- আপডেট সময় : ০৪:২৯:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ), ১১ আগস্ট ২০২৬: কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি থেকে অংশ নেওয়া পাঁচজন পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির মানবিক বিভাগ থেকে মোট পাঁচজন ছাত্রী অংশ নেয়। সোমবার প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের ফলাফলে দেখা যায়, পাঁচ পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।
এদিকে মাত্র পাঁচজন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে বিদ্যালয়ে আটজন শিক্ষক কর্মরত থাকায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ার পরও কেন প্রত্যাশিত ফলাফল আসেনি এবং পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি ছিল কি না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত বিশেষ ক্লাস, ব্যক্তিগত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় একাডেমিক সহায়তার ঘাটতি থাকলে এমন ফলাফল হতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জাকির জানান, তিনি প্রথমবার পাঠদানের অনুমতি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে প্রকাশিত ফলাফলের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে পারেননি।
এদিকে বিদ্যালয়ের ফলাফলে শতভাগ অকৃতকার্যের ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পাকুন্দিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওমর ফারুক ভূঁইয়া জানান, বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিদ্যালয়টি দ্রুত পরিদর্শন করা হবে। পাশাপাশি এমন ফলাফলের কারণ জানতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শোকজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাবিদ ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কম হলেও প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ফলাফল উন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের সমন্বিত নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষ করে দুর্বল শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে পরীক্ষার আগে নিয়মিত মূল্যায়ন, অতিরিক্ত ক্লাস ও ব্যক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এবারের এসএসসি ফলাফল তাই শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ফল বিপর্যয় নয়; বরং শিক্ষার মান, পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন সামনে এনেছে।














