চাহিদা ১৮ মেগাওয়াট, বরাদ্দ মিলছে ৯–১০ মেগাওয়াট; ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের হামলার আশঙ্কায় পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি
গোপালগঞ্জে তীব্র লোডশেডিং, হামলার আশঙ্কায় পুলিশি নিরাপত্তা চাইল বিদ্যুৎ অফিস
- আপডেট সময় : ০৮:৩৭:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে

গোপালগঞ্জ | ১১ আগস্ট ২০২৬: গোপালগঞ্জ শহরে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দিনে-রাতে সমানতালে বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে গ্রাহকদের মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের কার্যালয়, উপকেন্দ্র এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)। হামলা, নাশকতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিতভাবে নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ওজোপাডিকো গোপালগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নিরাপত্তা চাওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।
ওজোপাডিকো সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জ ওজোপাডিকো পাওয়ার হাউজ, গোপালগঞ্জ দপ্তর ক্যাম্পাস এবং চরপাথালিয়ায় অবস্থিত দুটি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের মাধ্যমে গোপালগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। তবে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে শিশু, বয়স্ক ও সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং দৈনন্দিন কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়ছে।
ওজোপাডিকোর চিঠিতে বলা হয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডের উপকেন্দ্র থেকে বরাদ্দ ও নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিতরণ করা হচ্ছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় গোপালগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহের আওতাধীন এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিদ্যুৎ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে কোনো অসন্তুষ্ট ব্যক্তি বা জনসাধারণ ওজোপাডিকোর দপ্তর, বৈদ্যুতিক স্থাপনা কিংবা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করতে পারেন। এমনকি কোনো ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা বা নাশকতা সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এ কারণে ওজোপাডিকো, গোপালগঞ্জ দপ্তরের সকল স্থাপনা এবং ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে এসব স্থাপনাকে নিয়মিত পুলিশ টহল রুটের আওতায় আনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজরদারি রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।
ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, “আমরা আমাদের দপ্তরসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিরাপত্তা চেয়ে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছি।”
লোডশেডিংয়ের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “বেশ কিছুদিন ধরে চাহিদার চেয়ে কম বিদ্যুৎ উৎপাদন হওয়ায় শহরে লোডশেডিং হচ্ছে। যেখানে চাহিদা ১৮ মেগাওয়াট, সেখানে বরাদ্দ পাচ্ছি ৯ থেকে ১০ মেগাওয়াট। যার ফলে আমাদের ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রাহকদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গ্রাহকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে অফিস ও উপকেন্দ্রে হামলা করতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকেই দপ্তর, উপকেন্দ্র এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ অফিসের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা চাওয়ার ঘটনায় গোপালগঞ্জে চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি সরকারি বিদ্যুৎ স্থাপনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।














