ভূমি কমিশন গঠন, খাস জমি বন্দোবস্ত, ভাষা-সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও শিক্ষা-চাকরিতে বিশেষ সুবিধাসহ ৮ দফা দাবি
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে জয়পুরহাটে সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ ৮ দফা দাবি আমোষ মুর্মুর
- আপডেট সময় : ০৭:৫০:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে

জয়পুরহাট | ৯ আগস্ট ২০২৬: আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে জয়পুরহাটে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ ৮ দফা দাবি তুলে ধরেছেন পাঁচবিবি উপজেলা আদিবাসী নেতা মি. আমোষ মুর্মু।
রোববার (৯ আগস্ট) জয়পুরহাট শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব দাবি উত্থাপন করেন।
মি. আমোষ মুর্মু পাঁচবিবি উপজেলা আদিবাসী সাঁওতাল পারগানা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক।
আলোচনা সভায় আমোষ মুর্মু বলেন, আদিবাসীদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। পাশাপাশি আদিবাসীদের বেদখল হওয়া ভূমি উদ্ধারে স্বতন্ত্র ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, ভূমিহীন আদিবাসীদের সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করতে হবে এবং সরকারি সম্পত্তিতে বসবাসরত আদিবাসীদের খাস জমি থেকে উচ্ছেদ বন্ধ করতে হবে।
আদিবাসী নেতা আমোষ মুর্মু ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৭ ধারা কার্যকর করার দাবিও জানান। আইনের ৯৭ ধারায় নির্দিষ্ট আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের বিধান রয়েছে। সরকারি আইনভান্ডারের তথ্য অনুযায়ী, এ ধারায় নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আদিবাসী রায়তের জমি অন্য আদিবাসীর কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে বিধিনিষেধ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া আদিবাসীদের ভাষা ও কৃষ্টি-সংস্কৃতি সরকারি উদ্যোগে সংরক্ষণ, চাকরিতে কোটা ভিত্তিক মেধা তালিকায় নিয়োগ, বিধবা ভাতা ও বয়স্ক ভাতার সুবিধা নিশ্চিত করা এবং আদিবাসী ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ায় বিশেষ সহযোগিতা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
আমোষ মুর্মুর ৮ দফা দাবি:
১. আদিবাসীদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান।
২. বেদখল হওয়া আদিবাসীদের ভূমি উদ্ধারে স্বতন্ত্র ভূমি কমিশন গঠন।
৩. ভূমিহীন আদিবাসীদের সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার ব্যবস্থা চালু।
৪. সরকারি সম্পত্তিতে বসবাসরত আদিবাসীদের খাস জমি থেকে উচ্ছেদ বন্ধ।
৫. ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৭ ধারা কার্যকর করা।
৬. আদিবাসীদের ভাষা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সরকারি উদ্যোগে সংরক্ষণ।
৭. চাকরিতে কোটা ভিত্তিক মেধা তালিকায় আদিবাসীদের নিয়োগের ব্যবস্থা করা।
৮. বিধবা ও বয়স্ক ভাতাসহ আদিবাসী ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ায় বিশেষ সহযোগিতা প্রদান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান। এ সময় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা আদিবাসী নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা আলোচনা সভায় অংশ নেন।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়। ১৯৯৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৯০টি দেশে আনুমানিক ৪৭ কোটি ৬০ লাখ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ২৩ক অনুচ্ছেদে ‘উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের’ স্বতন্ত্র স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা ও উন্নয়নের জন্য রাষ্ট্রের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।














