এক বছরে পাসের হার কমেছে ১২.৫৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ কমেছে ২ হাজার ৪৪৫ জন; মানবিক বিভাগে পাস ৩৮.৭৯ শতাংশ
এসএসসির ফলে চট্টগ্রাম বোর্ডে হতাশা, কমেছে পাস ও জিপিএ-৫
- আপডেট সময় : ১২:৩৮:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার বোর্ডের পাসের হার কমেছে ১২.৫৯ শতাংশ। একই সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ২০২৫ ও ২০২৬ সালের ফলাফলের তুলনামূলক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালে বোর্ডের পাসের হার ছিল ৭২.০৭ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৯.৪৮ শতাংশে।
অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১২.৫৯ শতাংশ।
২০২৬ সালের এসএসসি ফলাফলে ছাত্রদের পাসের হারও আগের বছরের তুলনায় কমেছে। ২০২৫ সালে ছাত্রদের পাসের হার ছিল ৭১.৯৩ শতাংশ। এবার তা কমে হয়েছে ৫৮.৭৬ শতাংশ।
ছাত্রীদের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের পাসের হার ছিল ৭২.১৯ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬০.০৩ শতাংশে।
বিভাগভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণেও দেখা গেছে, বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—তিন বিভাগেই পাসের হার কমেছে।
বিজ্ঞান বিভাগে ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৯২.৫৭ শতাংশ। এবার তা কমে হয়েছে ৮৪.৪১ শতাংশ।
মানবিক বিভাগে পাসের হার ৫৫.০২ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩৮.৭৯ শতাংশে। অর্থাৎ এ বিভাগে পাসের হার কমেছে ১৬.২৩ শতাংশ।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২০২৫ সালের ৭৩.৫৪ শতাংশ পাসের হার কমে ২০২৬ সালে হয়েছে ৬০.১২ শতাংশ।
চট্টগ্রাম মহানগরের এসএসসি ফলাফলেও আগের বছরের তুলনায় অবনতি হয়েছে।
২০২৫ সালে মহানগরে পাসের হার ছিল ৮১.০৩ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা কমে হয়েছে ৭৪.৩৩ শতাংশ।
মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলার পাসের হার ৭১.২৯ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৫৭.১৩ শতাংশ।
আর মহানগরসহ পুরো চট্টগ্রাম জেলার পাসের হার ২০২৫ সালের ৭৪.৯০ শতাংশ থেকে কমে ২০২৬ সালে দাঁড়িয়েছে ৬৪.০৩ শতাংশে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন অন্যান্য জেলাগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে।
কক্সবাজারে পাসের হার ৭০.৭৬ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৫৭.০৯ শতাংশ।
রাঙামাটিতে ৫৬.৫৫ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৪১.১৭ শতাংশ।
খাগড়াছড়িতে ৬০.৭৭ শতাংশ থেকে কমে পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৪.৯৯ শতাংশে।
বান্দরবানে পাসের হার ৬৩.১২ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৪৭.৮৮ শতাংশ।
পাসের হারের পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে।
২০২৫ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন শিক্ষার্থী। ২০২৬ সালে এ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জনে।
অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২ হাজার ৪৪৫ জন।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যাও কমেছে।
২০২৫ সালে শতভাগ পাস করা বিদ্যালয় ছিল ৩৩টি। ২০২৬ সালে তা কমে হয়েছে ২১টি।
অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শতভাগ পাস করা বিদ্যালয় কমেছে ১২টি।
২০২৫ সালে শূন্য শতাংশ পাস করা বিদ্যালয় ছিল একটি। তবে ২০২৬ সালের তুলনামূলক পরিসংখ্যানে এ-সংক্রান্ত তথ্যের ঘর অস্পষ্ট থাকায় নিশ্চিত সংখ্যা বলা যাচ্ছে না।
এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় কমেছে।
২০২৫ সালে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার ৩৮৮ জন। ২০২৬ সালে পরীক্ষার্থী সংখ্যা কমে হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন।
অর্থাৎ এক বছরে পরীক্ষার্থী কমেছে ৯ হাজার ৭০৬ জন।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের এসএসসি ফলাফলে প্রায় সব সূচকেই অবনতি হয়েছে। সামগ্রিক পাসের হার, ছাত্র-ছাত্রীদের পাসের হার, তিন বিভাগের ফলাফল, বিভিন্ন জেলার পাসের হার, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী এবং শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা—সব ক্ষেত্রেই গত বছরের তুলনায় নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
বিশেষ করে মানবিক বিভাগে পাসের হার ৩৮.৭৯ শতাংশ এবং খাগড়াছড়িতে ৩৪.৯৯ শতাংশ হওয়া এবারের ফলাফলের উল্লেখযোগ্য দিক।
সব মিলিয়ে, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমার পাশাপাশি ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই সূচকেই উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে।














