বিদ্যালয়ে ছয়জন শিক্ষক থাকলেও এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১০ শিক্ষার্থীর কেউ পাস করেনি; নিয়মিত শিক্ষার্থী উপস্থিতি কম থাকাকে ফলাফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
৬ শিক্ষক, ১০ পরীক্ষার্থী; তবুও এসএসসিতে পাস করেনি কেউ, ডোমারের আমবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার শূন্য
- আপডেট সময় : ০৯:১৫:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

নীলফামারী, ডোমার | ১০ আগস্ট ২০২৬:
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার আমবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১০ জন পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলে বিদ্যালয়টির এবারের এসএসসি পরীক্ষার পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে। মাত্র ১০ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে বিদ্যালয়ে ছয়জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও এমন ফলাফল নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে সারাদেশে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর আমবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফল বিশ্লেষণে এ চিত্র পাওয়া যায়। বিদ্যালয় থেকে এ বছর মোট ১০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাদের একজনও পাস করতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ১৫৫, নিয়মিত আসে ২০–৩০ জন
স্থানীয় ও বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়ের নথিতে শিক্ষার্থী রয়েছে ১৫৫ জন। তবে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয় মাত্র ২০ থেকে ৩০ জনের মতো শিক্ষার্থী। ফলে শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি পাঠদানের ধারাবাহিকতা ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিদ্যালয়ে বর্তমানে ছয়জন শিক্ষক রয়েছেন। এছাড়া বিদ্যালয়ে ভবন ও শ্রেণিকক্ষসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত সুবিধা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এসএসসিতে অংশ নেওয়া ১০ শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হওয়ায় ফলাফল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শিক্ষকের দাবি, অনুপস্থিতি ও অভিভাবকদের অসচেতনতা বড় কারণ ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়ে আমবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জিকরুল হক বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে না আসা এবং অভিভাবকদের অসচেতনতা বড় সমস্যা। এর সঙ্গে এলাকায় বাল্যবিয়ের প্রবণতা ও শিক্ষক সংকটও রয়েছে। এসব কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছে এবং এবার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়টির ফলাফল নিয়ে প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলামের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি—এমন তথ্যও একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশাসনের নজরে ফলাফল:
ডোমার উপজেলা মাধ্যমিকের অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার মো. সাফিউল ইসলাম বলেন, আমবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফলের প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নীলফামারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমানও জানিয়েছেন, বিদ্যালয়টির ফলাফল কেন এমন হয়েছে, তা জানতে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উপস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব:
শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি বিদ্যালয়ের ভালো ফলাফলের জন্য শুধু ভবন বা শিক্ষক থাকলেই যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের ধারাবাহিকতা, অভিভাবকদের সচেতনতা, ঝরে পড়া রোধ এবং বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ।
আমবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এবারের ফলাফল তাই শুধু ১০ শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনা নয়; বরং শিক্ষার্থী উপস্থিতি, শিক্ষার পরিবেশ ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক চিত্র পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে।














