হামলার পর রংপুর থেকে ঢাকায় নেওয়া হয় আহত শিক্ষককে; পরিবারের দাবি, মামলা হলেও সাত দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি কোনো আসামি
অনলাইন জুয়ার প্রতিবাদে রড-ধারালো অস্ত্রের হামলা, গুরুতর আহত কলেজ শিক্ষক
- আপডেট সময় : ১০:৫২:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোর প্রতিবাদ করায় আরিফুল ইসলাম নামে এক কলেজ শিক্ষককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে। হামলার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই শিক্ষককে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরিবারের দাবি, সেখানে গত আট দিন ধরে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
আহত আরিফুল ইসলাম লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক। তিনি আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া এলাকার বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে।
এ ঘটনায় আরিফুল ইসলামের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক বাদী হয়ে ঘটনার পরদিন আদিতমারী থানায় মামলা করেন। মামলায় ছয়জন কথিত অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো ব্যবসায়ীসহ মোট ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া এলাকায় রহিদুল ইসলাম, হাসান আলী ও মাসুদ আলীসহ কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোর কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের মাধ্যমে এলাকার অনেকে অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
এজাহারে আরও দাবি করা হয়েছে, জুয়ার টাকা পরিশোধ করতে না পেরে কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আবার কেউ পরিবার-পরিজন ছেড়ে ঢাকায় চলে গেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা ও কলেজ শিক্ষক আরিফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ওই যুবকদের অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করে আসছিলেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ না করলে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হবে বলেও তিনি তাদের সতর্ক করেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এর জের ধরে গত ১ আগস্ট দুপুরে কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে আরিফুল ইসলামের ওপর হামলা চালানো হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। হামলাকারীরা তাকে লোহার রড দিয়ে মারধরের পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার পর স্থানীয়রা আহত আরিফুল ইসলামকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পরিবারের দাবি, ঢাকায় নেওয়ার পরও তার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। হামলার আট দিন পরও তিনি জ্ঞান ফেরেননি এবং অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত শিক্ষকের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “আমার ছেলের অবস্থা ভালো নয়। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। গত আট দিন ধরে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। এখনো তার জ্ঞান ফেরেনি। চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন। মামলা করার সাত দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।”
পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মামলা দায়েরের পর সাত দিন পার হলেও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজিব বলেন, “এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।














