মৌলভীবাজার বিসিক শিল্পনগরীতে ঝড়ে পড়ে যাওয়া সরকারি গাছ নিলাম ছাড়া বিক্রির অভিযোগ; কর্মকর্তা ও মালিক সমিতির বক্তব্যে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি
মৌলভীবাজার বিসিকে ঝড়ে পড়া গাছ বিক্রি, অনুমতি ও নিলাম নিয়ে প্রশ্ন
- আপডেট সময় : ১১:৩০:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬ ৬৫ বার পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজার শহরতলীর গোমড়া এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) শিল্পনগরীতে সরকারি গাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ঝড়ে পড়ে যাওয়া একটি গাছ কোনো ধরনের টেন্ডার বা নিলাম প্রক্রিয়া ছাড়াই বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় মৌলভীবাজার জেলা বিসিক কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক (ডেপুটি ম্যানেজার) মো. মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, সরকারি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নিলাম বা উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা প্রয়োজন হলেও তা অনুসরণ করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিসিক শিল্পনগরীর ভেতরে ঝড়ে পড়ে যাওয়া একটি সরকারি গাছ কেটে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযোগ ওঠে, গাছটি নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিক্রি করা হয়েছে।
গোমড়া এলাকার বাসিন্দা আহমদ মিয়া নামের এক ব্যক্তি জানান, তিনি বিসিক কর্মকর্তার কাছে টাকা দিয়ে গাছটির একটি অংশ নিয়ে গেছেন। বাকি অংশও পরে নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে বলে তিনি জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, বিসিক শিল্পনগরীর ভেতর থেকে গাছের অংশ কেটে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে তারা জানতে পারেন, গাছটি বিক্রি করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বিসিক মৌলভীবাজার কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক মো. মাহমুদুল হাসান প্রথমে দাবি করেন, গাছটি বিক্রি করা হয়নি, শুধু সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি জানান, গাছটি বিসিক মৌলভীবাজার জেলা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আফজাল উদ্দিন বিক্রি করেছেন।
তবে বিসিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আফজাল উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গাছ বিক্রির সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।
সরকারি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী টেন্ডার বা নিলাম প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। এ বিষয়ে বিসিক সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক (উপসচিব) খালেদ মাহমুদ জানান, সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও বিক্রির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে কেন নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি এবং কার অনুমতিতে গাছটি বিক্রি করা হয়েছে।














