ভাইরাল ভিডিও নিয়ে এমপি নাসের রহমানের এআই কারসাজির অভিযোগ; ফ্যাক্ট-চেক প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য, সরকারি তদন্তের অপেক্ষা
ভাইরাল ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি নয়—এমন দাবি বেঙ্গল লেন্সের; রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এমপি নাসের রহমানের
- আপডেট সময় : ০৭:১১:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬ ৭৬ বার পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজার | ৩ আগস্ট ২০২৬: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমানকে ঘিরে একটি আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ভিডিওটি নিয়ে এমপি নাসের রহমান দাবি করেছেন, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। তবে ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্ম বেঙ্গল লেন্স তাদের যাচাই প্রতিবেদনে বলেছে, ভিডিওটি এআই-নির্মিত—এমন কোনো প্রমাণ তারা পায়নি।
গত ১ আগস্ট নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এম নাসের রহমান অভিযোগ করেন, রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে একটি ভুয়া, বিকৃত ও আপত্তিকর ভিডিও তৈরি ও প্রচার করছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভিডিওটিতে অন্য একজনের শরীরের সঙ্গে তাঁর মুখমণ্ডল সংযুক্ত করে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা।
তবে পোস্টটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পর সেটি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আর দেখা যায়নি।
অন্যদিকে, একই দিনে প্রকাশিত বেঙ্গল লেন্সের ফ্যাক্ট-চেক প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচিত ভিডিও ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণে এআই-জেনারেটেড কনটেন্টের কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভিডিওতে আলোর প্রতিফলন, ছায়া, শরীরের গঠন, চলাফেরা (মুভমেন্ট) এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশ বিশ্লেষণ করে এগুলোকে স্বাভাবিকভাবে ধারণকৃত ভিডিওর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়েছে।
বেঙ্গল লেন্স আরও জানায়, SynthID ও Hive Moderation-সহ একাধিক এআই শনাক্তকরণ টুল ব্যবহার করেও ভিডিওটি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি হয়েছে—এমন কোনো তথ্য বা প্রযুক্তিগত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, ভাইরাল ভিডিওতে টেবিলের ওপর থাকা একটি মুখোশ (মাস্ক) অন্য একটি অনুষ্ঠানে এম নাসের রহমানের ব্যবহৃত মুখোশের সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে।
তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সরকারি সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। ফলে ভিডিওটির সত্যতা এবং এর উৎস সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা রয়েছে।
এদিকে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে এমপি নাসের রহমানের দাবি এবং বেঙ্গল লেন্সের যাচাই—উভয় পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো সরকারি তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হয়নি।














