চট্টগ্রাম ০৬:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আধুনিক সকল ফিচার যুক্ত  জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া দৈনিক সারাদেশ ৭১  নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের আবেদনের  জন্য অপেক্ষমান দেশের অন্যতম প্রথম সারির অনলাইন পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য সংবাদদাতা আবশ্যক, বিশেষ সংবাদদাতা (৪),  ক্রাইম রিপোর্টার (৫), স্টাফ রিপোর্টার (১০), বিভাগীয় ব্যুরো (৩) উপজেলা প্রতিনিধি (১০), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (৪),  মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার (সকল জেলা ও উপজেলার জন্য) (১০) ইউনিয়ন প্রতিনিধি (৫)  আবেদনের জন্য সিভি, জাতীয় পরিচয় পত্র, আবেদন পাঠাবেন saradesh71@gmail.com এই মেইলে।
সংবাদ শিরোনামঃ
ডবলমুরিং-হালিশহরে মাদক, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্যবস্থা চেয়ে আবেদন রংপুরের নতুন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানকে জেলা কংগ্রেসের ফুলেল শুভেচ্ছা রাণীশংকৈলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত, পতাকা উত্তোলন ও বৃক্ষরোপণ দামুড়হুদায় মটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চোরের মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে হরিরামপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতীবান্ধা-পাটগ্রামে বিজিবির পৃথক অভিযান, উদ্ধার ভারতীয় পণ্য নজরুল বর্ষ ঘিরে পীরগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজন বিদ্রোহী কবির চেতনায় উখিয়ায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা নওগাঁয় ডিবি পুলিশের অভিযানে ৪২ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১

শিবগঞ্জে কৃষিজমি, আমবাগান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকিতে; ৭৪৮ কোটি টাকার স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প শুরু হচ্ছে শিগগিরই

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার ভয়াল থাবা: একের পর এক গ্রাম বিলীন হওয়ার শঙ্কা

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:২৯:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশ ৭১ নিউজ – নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে নদীতীরবর্তী মানুষের জীবন-জীবিকা চরম সংকটে পড়েছে। গত এক মাসে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অন্তত দুই শতাধিক বসতবাড়ি, শতাধিক বিঘা কৃষিজমি, আমবাগান, বাঁশঝাড় ও অসংখ্য গাছপালা। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিবগঞ্জ উপজেলার গমের চর, পাঁকা, দুর্লভপুর ও উজিরপুর ইউনিয়নের কয়েকটি নদীতীরবর্তী এলাকা। প্রতিদিন নদীর পাড় ভেঙে নতুন নতুন এলাকা বিলীন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ভাঙনের তীব্রতা বাড়ায় অনেক পরিবার নিজেদের ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। আবার অনেকে বসতভিটা হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা ঢল, ভারী বৃষ্টিপাত ও নদীর প্রবল স্রোতের কারণে পদ্মার ভাঙন এবার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নদীর তীরবর্তী কৃষিজমি, আমবাগান ও বিভিন্ন স্থাপনা প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে পড়ছে।

স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন, উজানের পানি প্রবাহের পরিবর্তনের কারণে নদীর স্রোত বেড়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, দুর্লভপুর ও উজিরপুর ইউনিয়নের পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। চলমান ভাঙনের কারণে এসব এলাকার মানুষ বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রকিবুল ইসলাম জানান, শিবগঞ্জ উপজেলার পদ্মার পূর্ব তীর সংরক্ষণে ৭৪৮ কোটি টাকার স্থায়ী নদীশাসন ও বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং শিগগিরই মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু হবে।

তিনি বলেন, “নদীর পূর্ব তীর রক্ষায় স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিম তীর সংরক্ষণের জন্যও পৃথক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।”

পাউবো কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘমেয়াদে ভাঙন নিয়ন্ত্রণে নদীশাসন, তীর সংরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গত কয়েক বছরে পদ্মার ভাঙনে হাজারো পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। নদীতে বিলীন হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, কবরস্থান, ঈদগাহ ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, শুধু পাঁকা ইউনিয়নেই কয়েকটি গ্রাম এবং বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। বর্তমানে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ স্থাপনা, বিজিবি ক্যাম্প, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, বাজার ও কৃষিজমি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব বলেন, “৭৪৮ কোটি টাকার নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিবগঞ্জের পূর্ব তীরের ভাঙন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছি। পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত পুনর্বাসন, খাদ্য সহায়তা ও আর্থিক সহযোগিতার দাবি জানিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে চলতি বর্ষা মৌসুমে পদ্মার ভাঙন আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শিবগঞ্জে কৃষিজমি, আমবাগান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকিতে; ৭৪৮ কোটি টাকার স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প শুরু হচ্ছে শিগগিরই

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার ভয়াল থাবা: একের পর এক গ্রাম বিলীন হওয়ার শঙ্কা

আপডেট সময় : ০৪:২৯:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে নদীতীরবর্তী মানুষের জীবন-জীবিকা চরম সংকটে পড়েছে। গত এক মাসে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অন্তত দুই শতাধিক বসতবাড়ি, শতাধিক বিঘা কৃষিজমি, আমবাগান, বাঁশঝাড় ও অসংখ্য গাছপালা। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিবগঞ্জ উপজেলার গমের চর, পাঁকা, দুর্লভপুর ও উজিরপুর ইউনিয়নের কয়েকটি নদীতীরবর্তী এলাকা। প্রতিদিন নদীর পাড় ভেঙে নতুন নতুন এলাকা বিলীন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ভাঙনের তীব্রতা বাড়ায় অনেক পরিবার নিজেদের ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। আবার অনেকে বসতভিটা হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা ঢল, ভারী বৃষ্টিপাত ও নদীর প্রবল স্রোতের কারণে পদ্মার ভাঙন এবার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নদীর তীরবর্তী কৃষিজমি, আমবাগান ও বিভিন্ন স্থাপনা প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে পড়ছে।

স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন, উজানের পানি প্রবাহের পরিবর্তনের কারণে নদীর স্রোত বেড়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, দুর্লভপুর ও উজিরপুর ইউনিয়নের পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। চলমান ভাঙনের কারণে এসব এলাকার মানুষ বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রকিবুল ইসলাম জানান, শিবগঞ্জ উপজেলার পদ্মার পূর্ব তীর সংরক্ষণে ৭৪৮ কোটি টাকার স্থায়ী নদীশাসন ও বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং শিগগিরই মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু হবে।

তিনি বলেন, “নদীর পূর্ব তীর রক্ষায় স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিম তীর সংরক্ষণের জন্যও পৃথক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।”

পাউবো কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘমেয়াদে ভাঙন নিয়ন্ত্রণে নদীশাসন, তীর সংরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গত কয়েক বছরে পদ্মার ভাঙনে হাজারো পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। নদীতে বিলীন হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, কবরস্থান, ঈদগাহ ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, শুধু পাঁকা ইউনিয়নেই কয়েকটি গ্রাম এবং বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। বর্তমানে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ স্থাপনা, বিজিবি ক্যাম্প, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, বাজার ও কৃষিজমি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব বলেন, “৭৪৮ কোটি টাকার নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিবগঞ্জের পূর্ব তীরের ভাঙন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছি। পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত পুনর্বাসন, খাদ্য সহায়তা ও আর্থিক সহযোগিতার দাবি জানিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে চলতি বর্ষা মৌসুমে পদ্মার ভাঙন আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।