সাত বছর আগে নির্মিত ভবন অবশেষে চালুর পথে; সেপ্টেম্বরেই উদ্বোধনের লক্ষ্যে চলছে যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও জনবল নিয়োগ।
সাত বছর পর চালু হচ্ছে রংপুর ১০০ শয্যা শিশু হাসপাতাল, সেপ্টেম্বরেই উদ্বোধনের প্রস্তুতি
- আপডেট সময় : ১১:০৯:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে

রংপুর | ১ আগস্ট ২০২৬ : দীর্ঘ সাত বছর অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে রংপুরবাসীর। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার বহু বছর পর অবশেষে চালু হচ্ছে রংপুরের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক শিশু হাসপাতাল। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, আসবাবপত্র সংগ্রহ এবং জনবল নিয়োগের কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হবে।

শনিবার (১ আগস্ট) সকালে হাসপাতালের আউটডোর, ইনডোর ভবন, প্রধান প্রবেশদ্বার ও অক্সিজেন প্লান্ট পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখার অতিরিক্ত সচিব আরিফ আহমদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্মিত শিশু হাসপাতালগুলো দ্রুত চালুর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র ক্রয় এবং জনবল নিয়োগের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। হাসপাতালগুলোর জন্য চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কেনার উদ্দেশ্যে ২০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে টেন্ডার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি পৌঁছে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরিফ আহমদ আরও জানান, হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ক্রয়ের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে নমুনা যাচাই-বাছাই চলছে। পাশাপাশি জনবল নিয়োগের জন্য নতুন পদ সৃজনের প্রস্তাব অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে, যা অনুমোদনের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী দুই থেকে এক মাসের মধ্যে সরকারিভাবে দেশের শিশু হাসপাতালগুলো উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্বোধনের আগেই রংপুর শিশু হাসপাতালের অবশিষ্ট সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে।
পরিদর্শন শেষে অতিরিক্ত সচিব আরিফ আহমদ রংপুর মা ও শিশু হাসপাতাল এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালও পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য উপপরিচালক ডা. ওয়াজেদ আলী, রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা এবং স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সাত বছরের অপেক্ষার ইতিহাস: রংপুরের সাবেক সদর হাসপাতালের ১ দশমিক ৭৮ একর জমির ওপর নির্মিত ১০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক শিশু হাসপাতাল প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০১৭ সালের ২১ নভেম্বর। প্রায় ৩১ কোটি ৪৮ লাখ ৯২ হাজার ৮০৯ টাকা ব্যয়ে ঢাকার মেসার্স মল্লিক এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স অণিক ট্রেডিং করপোরেশন নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে।
দুই বছরের নির্ধারিত সময়সীমার আগেই ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলেও ২০২০ সালের মার্চে ভবনটি জেলা সিভিল সার্জনের কাছে হস্তান্তরের পরপরই করোনা মহামারি শুরু হওয়ায় এটি ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে শিশু হাসপাতাল হিসেবে কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।
হাসপাতালটিতে তিনতলা মূল ভবনের পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তাদের জন্য পৃথক আবাসন, অপারেশন থিয়েটার, বার্ন ইউনিট, জরুরি বিভাগ, আউটডোর, আধুনিক ল্যাব, ওয়ার্ড, কেবিন, অক্সিজেন প্লান্ট এবং অন্যান্য সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হাসপাতালটি চালু হলে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের শিশুদের জটিল অস্ত্রোপচার, নবজাতক চিকিৎসা এবং বিভিন্ন বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা নিজ বিভাগেই স্বল্প খরচে পাওয়া যাবে। ফলে ঢাকামুখী রোগীর চাপ কমবে এবং শিশুস্বাস্থ্য সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।














