কক্সবাজার রেলস্টেশন লিজের সম্ভাবনা যাচাই, পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণ এবং চকরিয়ায় মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির পরিকল্পনার কথা জানালেন প্রতিমন্ত্রী।
কক্সবাজার রেলস্টেশন লিজের সক্ষমতা যাচাইয়ে প্রতিমন্ত্রী; চকরিয়ায় থামবে মহানগর এক্সপ্রেস চালুর পরিকল্পনা
- আপডেট সময় : ০৯:৪৩:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় (লিজ) পরিচালনার সক্ষমতা যাচাইয়ে দুই দিনের সফরে কক্সবাজারে অবস্থান করছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে চকরিয়া উপজেলার উত্তর হারবাং এলাকায় তমা কনস্ট্রাকশনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, কক্সবাজারসহ সংশ্লিষ্ট রেলস্টেশনগুলো সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে লিজ দেওয়ার সম্ভাবনা, পরিচালনাগত সক্ষমতা এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দোহাজারী-কক্সবাজার ১০২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণের সময় বন বিভাগের প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার গাছ অপসারণ করা হয়েছিল। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বর্তমানে রোপণ করা গাছগুলোর অবস্থা পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি আরও কোথায় এবং কী পরিমাণ বৃক্ষরোপণ করা সম্ভব, তা নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, দেশের বনভূমি সংরক্ষণ এবং বৃক্ষ বৃদ্ধি বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চকরিয়া অঞ্চলের মানুষের ঢাকা যাতায়াত আরও সহজ করতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ‘মহানগর এক্সপ্রেস’-এর আরও একজোড়া ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে চকরিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের যাত্রীরা সহজেই চট্টগ্রামে পৌঁছে ঢাকাগামী ট্রেনে সংযুক্ত হতে পারবেন। একই সঙ্গে চকরিয়া স্টেশনে মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির বিষয়টিও পরিকল্পনার আওতায় রয়েছে বলে তিনি জানান।
রেলস্টেশনগুলোর নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চকরিয়া, ডুলাহাজারা ও হারবাংসহ বিভিন্ন স্টেশনে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, নিরাপত্তা জোরদার এবং রেলওয়ে পুলিশিং বৃদ্ধির দাবির সঙ্গে সরকার একমত। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এ অঞ্চল নিয়মিত বন্যাকবলিত হওয়ায় যেসব স্থানে রেলপথ পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, সেসব বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল আবেদন করলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার, চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান, তমা কনস্ট্রাকশনের পরিচালক বিমল শাহ, প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব জাহাঙ্গীর আলম, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নাজমুল হুদাসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
প্রতিমন্ত্রীর এই সফরকে কক্সবাজার রেলপথের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা, যাত্রীসেবা উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দক্ষিণাঞ্চলের রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।














