নির্ধারিত বরাদ্দের চেয়ে কম ব্যয়ে সম্পন্ন দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্প; কৃষি ও জলাবদ্ধতা নিরসনে মিলবে সুফল
সরকারি অর্থের সাশ্রয়ে নজির গড়ল পাঁচবিবি উপজেলা প্রশাসন
- আপডেট সময় : ০৭:৪৫:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্প নির্ধারিত বরাদ্দের চেয়ে কম ব্যয়ে সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় অব্যয়িত ১০ লাখ ৮৭ হাজার ২৬৫ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সরকারি অর্থের সাশ্রয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দৃষ্টান্ত হিসেবে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের মাধ্যমে বাগজানা ইউনিয়নের সোনাপুর-খোর্দ্দমশুল-ঝিনাইগাড়ী হয়ে সোনামনু মাস্টারের জমি থেকে জীবনপুর অভিমুখে ১ হাজার ৮০০ মিটার খাল পুনঃখননের জন্য ৩১ লাখ ৭৯ হাজার টাকা এবং কুসুম্বা ইউনিয়নের ঢাকারপাড়া আকরামের বাড়ি থেকে কুসুম্বা স্লুইচগেট পর্যন্ত ৬০০ মিটার খাল পুনঃখননের জন্য ৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
সরকারি নির্দেশনা অনুসারে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাল পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন করা হয়। বর্ষা মৌসুমে কয়েক দফা খালের পাড় সংস্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে খালের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির কয়েকশ গাছ রোপণ করা হয়েছে, যা পরিবেশ সংরক্ষণ ও মাটির ক্ষয়রোধে সহায়ক হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোনাপুর-জীবনপুর খাল পুনঃখনন প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ২১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৮৫ টাকা। ফলে এ প্রকল্পে ১০ লাখ ৩৫ হাজার ১১৫ টাকা অব্যয়িত থাকে। অপরদিকে, ঢাকারপাড়া-কুসুম্বা স্লুইচগেট খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৭ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫০ টাকা এবং অব্যয়িত থাকে ৫২ হাজার ১৫০ টাকা।
দুটি প্রকল্প মিলিয়ে মোট ১০ লাখ ৮৭ হাজার ২৬৫ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাশপিয়া তাসরিন বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বাগজানা ও কুসুম্বা ইউনিয়নে দুটি খাল পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত এ প্রকল্পে শ্রমিকদের মজুরি সরাসরি তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে। প্রকল্প শেষে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে খাল পুনঃখনন কমিটির সকল সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন বলেই সরকারি অর্থ সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে। এই খাল পুনঃখনন সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকদের সেচ কার্যক্রম সহজ করবে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষিকাজ ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছিল। পুনঃখননের ফলে কৃষি উৎপাদন, সেচ সুবিধা এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।














