পাঁচবিবি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ
পাঁচবিবিতে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান, নারী নেতৃত্ব বিকাশে সচেতনতা জোরদার
- আপডেট সময় : ০৩:৩৭:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা এবং নারী নেতৃত্বের বিকাশে সামাজিক সচেতনতা ও নাগরিক অংশগ্রহণ আরও জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পাঁচবিবি প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়। সুইজারল্যান্ড দূতাবাস, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে, জিএফএ কনসালটিং গ্রুপ পরিচালিত (CEF) কর্মসূচির আওতায় মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (MSF) বাস্তবায়িত EmpowerHer প্রকল্পের স্থানীয় অংশীদার সংগঠন বন্ধন এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা জেন্ডার ইকুয়ালিটি ফোরামের সভাপতি মোছা. খালেদা আক্তার (বিজলী)। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এমএসএফের জেলা হিউম্যান রাইটস মনিটরিং অফিসার ডা. সাজ্জাদুল বারী এবং বন্ধনের উপজেলা ফ্যাসিলিটেটর মো. বিপ্লব আলী।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, গণমাধ্যম, যুবসমাজ এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
বক্তারা বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক সংলাপ, সহজলভ্য আইনি সহায়তা এবং কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পাঁচবিবিসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নারী ও শিশুরা এখনো যৌন হয়রানি, বাল্যবিবাহ, ধর্ষণ, পারিবারিক সহিংসতা ও যৌতুকজনিত নির্যাতনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব অপরাধ ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং টেকসই উন্নয়ন অর্জনের পথেও বাধা সৃষ্টি করছে।
প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে জানানো হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত পাঁচবিবি উপজেলায় ৪৮টি মাসিক সভা, একটি জেন্ডার সমতা ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা বিষয়ক কর্মশালা, দুটি ত্রৈমাসিক সভা, আটটি লিগ্যাল এইড কমিটির সভা, চারটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কার্যক্রম এবং সাতটি লিটিগেশন সাপোর্ট কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এসব কার্যক্রমে নারী, পুরুষ, কিশোর-কিশোরী, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও কমিউনিটি নেতাদের মধ্যে মানবাধিকার, জেন্ডার সমতা এবং আইনি সহায়তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে আয়োজকরা দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা, বাল্যবিবাহ ও যৌন হয়রানির ঘটনা গোপন না রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো, ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় জেন্ডার ইকুয়ালিটি ফোরাম ও কমিউনিটি উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।














