পেপার ওয়েট নিক্ষেপে আহত হওয়ার অভিযোগ; বিচারকাজ বর্জন, বিক্ষোভ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি আইনজীবীদের
গোপালগঞ্জ আদালতে নারী শিক্ষানবিশ আইনজীবী আহতের অভিযোগ: বিচারকের অপসারণ দাবিতে আইনজীবীদের বিক্ষোভ
- আপডেট সময় : ০৩:৩১:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে

গোপালগঞ্জ | ২৩ জুলাই ২০২৬: গোপালগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এক নারী শিক্ষানবিশ আইনজীবী বিচারকের ছুড়ে মারা পেপার ওয়েটের আঘাতে আহত হয়েছেন—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিচারকাজ বর্জন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত বিচারকের অপসারণ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও জেলা আইনজীবী সমিতির একাধিক সদস্যের দাবি, আগের দিন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলার শুনানি চলাকালে বিচারক সুজন মিয়া ক্ষুব্ধ হয়ে একটি পেপার ওয়েট ছুড়ে মারেন। এতে সাবিহা সুলতানা নামে এক নারী শিক্ষানবিশ আইনজীবী আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা বিচারকাজ বর্জন করে বার ভবনের সামনে সমবেত হন। পরে সেখান থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের হয়ে আদালত প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বার ভবনের সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রকাশ্য আদালতে একজন নারী আইনজীবীর ওপর এমন আচরণের অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক এবং বিচার বিভাগের মর্যাদার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
তাঁরা বলেন, আইনজীবীদের পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে।
বক্তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিচারকের অপসারণের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন ও কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তাঁরা।
ঘটনার পর আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত বিচারকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের বিচারিক (আমলি) ক্ষমতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্টরা।














