মানব পাচার প্রতিরোধে জাতীয় রচনা প্রতিযোগিতায় কক্সবাজারের শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল সাফল্য
মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানবিরোধী রচনা প্রতিযোগিতায় কক্সবাজারের ৬ শিক্ষার্থীর সাফল্য, চ্যাম্পিয়ন নাদরাতুন নায়ীম তাকওয়া
- আপডেট সময় : ০৭:১০:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে

মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত জাতীয় রচনা ও বার্তা লেখার প্রতিযোগিতায় কক্সবাজার জেলার ছয়জন শিক্ষার্থী চূড়ান্ত পর্বে স্থান করে নিয়ে অনন্য সাফল্য অর্জন করেছেন। তাদের মধ্যে জুনিয়র ক্যাটাগরিতে খুরুশকুল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাদরাতুন নায়ীম তাকওয়া চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। একই বিভাগে টেকনাফের সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরফাত শাহীন কমল এবং শহীদ আজিজুল হক বালিকা মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া সালমা যৌথভাবে প্রথম রানারআপ হয়েছেন।
“মানুষ বিক্রির জন্য নয়”—এই শক্তিশালী বার্তাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ৮৭০ জন শিক্ষার্থী মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে তাদের ভাবনা, সচেতনতা ও সম্ভাব্য সমাধান তুলে ধরে রচনা ও বার্তা লিখে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। কঠোর মূল্যায়নের পর ৩১ জন ফাইনালিস্ট নির্বাচিত হয়, যার মধ্যে কক্সবাজার জেলার ছয়জন শিক্ষার্থীর স্থান পাওয়া জেলার জন্য গৌরবের বিষয়।
কক্সবাজারের ফাইনালিস্টরা হলেন—উখিয়া ডিগ্রি কলেজের নূর ফাতেমা নুরী, সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়ের আরফাত শাহীন কমল, শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাহবুব মুহিব সাজিম, শহীদ আজিজুল হক বালিকা মাদরাসার সাদিয়া সালমা ও নাজমা আক্তার, এবং খুরুশকুল উচ্চ বিদ্যালয়ের নাদরাতুন নায়ীম তাকওয়া।
প্রতিযোগিতাটি দুইটি বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়—জুনিয়র (অষ্টম শ্রেণি থেকে কলেজ পর্যায়) এবং সিনিয়র (বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়)।
সিনিয়র বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থী নিলয় বিশ্বাস। রানারআপ হয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ফাহাদ হোসেন ফাহিম।
অন্যদিকে, জুনিয়র বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হওয়া নাদরাতুন নায়ীম তাকওয়ার পাশাপাশি যৌথ প্রথম রানারআপ হন সাদিয়া সালমা ও আরফাত শাহীন কমল। তৃতীয় স্থান অর্জন করেন গাজীপুরের পিরুজালী আদর্শ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সেজুতি আক্তার আয়েশা।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সাহিত্যগবেষক ও প্রাবন্ধিক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আজিজুল হক এবং জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
আয়োজকরা জানান, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের মতো গুরুতর সামাজিক অপরাধ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, নিরাপদ অভিবাসন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা গড়ে তোলা এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করাই এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য। প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে মানব পাচার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।














