সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জের তরুণ গীতিকার মনসুর সানীর লেখা একের পর এক গান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
একের পর এক চমক দেখাচ্ছেন সুনামগঞ্জের উদীয়মান গীতিকার ও সুরকার মনসুর সানী, ভাইরাল হচ্ছে একের পর এক লোকগান
- আপডেট সময় : ০৮:৪৭:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জের তরুণ গীতিকার ও সুরকার মনসুর সানী একের পর এক জনপ্রিয় লোক ও আধুনিক গান রচনা করে সংগীতপ্রেমীদের নজর কাড়ছেন। তার লেখা নতুন ও ব্যতিক্রমধর্মী গান প্রকাশের পরপরই ইউটিউব, টিকটক ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলছে। ধারাবাহিকভাবে জনপ্রিয়তা অর্জনের মাধ্যমে তিনি বাংলা লোকগানের সম্ভাবনাময় গীতিকার হিসেবে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করছেন।
সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনাবাজার ইউনিয়নের সুজাতপুর গ্রামের সন্তান মনসুর সানী। লোকজ সংস্কৃতি, বাউল ঐতিহ্য, গ্রামীণ জীবন ও আঞ্চলিক ভাষার সৌন্দর্যকে গানের কথায় ফুটিয়ে তোলাই তার সৃষ্টিশীলতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বর্তমানে ইউরোপের দেশ ইতালিতে বসবাস করলেও দেশের সংস্কৃতি ও শেকড়ের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখে নিয়মিত গান লিখে যাচ্ছেন তিনি।
শৈশব থেকেই গানের প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল। সুজাতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে গান লেখার প্রতি তার ঝোঁক তৈরি হয়। ২০১৪ সালে ‘সেই যাদুটা আমারে শিখাও’ গানটির মাধ্যমে গীতিকার হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। গানটি কণ্ঠ দেন শিল্পী আকাশ মাহমুদ ও লায়লা। এরপর ২০১৭ সালে কর্মসূত্রে ইতালি পাড়ি জমালেও থেমে থাকেননি; বরং প্রবাস থেকেই নিয়মিত নতুন নতুন গান লিখে বাংলা সংগীতাঙ্গনে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন।
গীতিকার হিসেবে তার বড় সাফল্য আসে জনপ্রিয় শিল্পী লায়লার কণ্ঠে প্রকাশিত ‘পিরীত হইলো মনের ক্যন্সার’ গানটির মাধ্যমে। গানটি মুক্তির পর অল্প সময়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং শ্রোতাদের মাঝে মনসুর সানীর নাম পরিচিত হয়ে ওঠে।
সম্প্রতি তার লেখা নতুন লোকগান ‘শুনাবো বাউলা গান, খাওয়াবো সিলোটি পান’ প্রকাশের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তিনি। আইকে মিউজিক স্টেশনের ব্যানারে প্রকাশিত গানটিতে সুর করেছেন আকরাম খান। কণ্ঠ দিয়েছেন পাপিয়া সরকার, মুন্নী সরকার ও মরিয়ম ইসলাম। গানটিতে সিলেট-সুনামগঞ্জ অঞ্চলের লোকজ সংস্কৃতি, বাউল ঐতিহ্য ও গ্রামীণ জীবনের সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। প্রকাশের পর থেকেই গানটি ইউটিউব, টিকটক ও ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং শ্রোতাদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
এছাড়া তার লেখা **‘আমার কাজলা পাখিরে’, ‘কেউ প্রেম কইরোনা কারো প্রেমে মইজনা’, ‘পঙ্খিরাজ ঘোড়া’, ‘ভাব জমাইছে’, ‘একটা ভুল কইরাছি আমি’, ‘আমি এক বেহায়া পাখি’ ও ‘তুমি আমার প্রাণ পাখি’**সহ একাধিক গান ইতোমধ্যে শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
শুধু গীতিকার হিসেবেই নয়, সংগীতচর্চার বিভিন্ন ক্ষেত্রেও সক্রিয় রয়েছেন মনসুর সানী। তার বিশ্বাস, বাংলা লোকগানকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে আধুনিক উপস্থাপনার পাশাপাশি লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণ জরুরি।
সুনামগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ধারাবাহিক সৃষ্টিশীলতা ধরে রাখতে পারলে মনসুর সানী ভবিষ্যতে বাংলা লোকসংগীতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গীতিকার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। দেশ-বিদেশের বাংলা ভাষাভাষী সংগীতপ্রেমীদের কাছেও তার গান ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।














