ভাইরাল ছবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন; স্থানীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়া ও অভিযুক্তের ব্যাখ্যায় নতুন আলোচনা
তারেক রহমানের সঙ্গে সম্পাদিত ছবি পোস্ট, সমালোচনায় ঠাকুরগাঁওয়ের ছাত্রদল নেতা
- আপডেট সময় : ০৭:৫৩:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে নিজের একটি সম্পাদিত (এডিটেড) ছবি প্রকাশের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ের এক ছাত্রদল নেতাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই ঢাকার গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার নেতাদের অংশগ্রহণে একটি সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম জিয়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে একটি সেলফি তোলেন। পরে তিনি ছবিটি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে সেটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এর কিছু সময় পর ডি.এন. ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও উপজেলা সাইবার ফোর্সের যুগ্ম আহ্বায়ক পলক উজ্জামান রনির ফেসবুক আইডিতে একই ছবির একটি সম্পাদিত সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। সমালোচকদের দাবি, মূল ছবিতে থাকা জিয়াউল ইসলাম জিয়ার পরিবর্তে ডিজিটাল সম্পাদনার মাধ্যমে নিজের ছবি যুক্ত করা হয়েছে।
ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অনেক ব্যবহারকারী মূল ছবির সঙ্গে ভাইরাল ছবির তুলনা করে এটিকে ডিজিটালি সম্পাদিত বলে মন্তব্য করেন। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ছবিটি নিয়ে কোনো স্বাধীন ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ বা আনুষ্ঠানিক যাচাইয়ের তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
পীরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন সৈকত বলেন, বর্তমানে উপজেলা ছাত্রদলের কোনো কার্যকর কমিটি না থাকায় সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ সীমিত। তিনি জানান, অভিযুক্ত নেতার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর ছবি প্রচার করা উচিত নয়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।”
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কায়েস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে অভিযুক্ত পলক উজ্জামান রনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক মন্তব্যে দাবি করেন, তিনি মূল ছবিতে থাকা ব্যক্তির পরিবর্তে নিজের ছবি যুক্ত করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে অন্য কেউ থাকলেও একইভাবে সম্পাদনা করতেন।
দলীয় সূত্রের দাবি, এর আগে তারেক রহমানের সঙ্গে সম্পাদিত ছবি প্রচারের অভিযোগে ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা রিয়াদ আহমেদ রাজকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল। ফলে নতুন এ ঘটনাও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিমভাবে সম্পাদিত বা বিভ্রান্তিকর ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টি করতে পারে। তাই এ ধরনের ছবি প্রকাশের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই এবং দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।














