শিল্পচর্চা, শিক্ষা বিস্তার ও সমাজসেবায় অনন্য অবদানের জন্য আজও কটিয়াদীবাসীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণীয় হাবিবুর রহমান বর্ণালী
শিক্ষক ও চিত্রশিল্পী হাবিবুর রহমান বর্ণালীর ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ, কটিয়াদীতে নানা আয়োজনে শ্রদ্ধা নিবেদন
- আপডেট সময় : ১০:৩৩:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে

কিশোরগঞ্জ | ১৯ জুলাই ২০২৬ : কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের পথিকৃৎ, বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী, শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক হাবিবুর রহমান বর্ণালীর ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (১৮ জুলাই)। এ উপলক্ষে তাঁর পরিবার, শুভানুধ্যায়ী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁর কর্মময় জীবন, শিল্পচর্চা ও সমাজসেবামূলক অবদান স্মরণ করছে।
হাবিবুর রহমান বর্ণালী ২০১৭ সালের ১৮ জুলাই বিকেলে ইন্তেকাল করেন। পরদিন ১৯ জুলাই নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর ১৯ জুলাই তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হচ্ছে।
জানা যায়, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে ফাইন আর্টসে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনের শুরুতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে ডিজাইনার হিসেবে প্রায় তিন বছর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে সরকারি চাকরি ছেড়ে নিজ জন্মভূমি কটিয়াদীতে ফিরে এসে শিল্পচর্চা, শিক্ষা বিস্তার এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে আত্মনিয়োগ করেন।
স্থানীয় পর্যায়ে শিল্প ও শিক্ষার বিকাশে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘বর্ণালী আর্ট অ্যান্ড ডিজিটাল সাইন’ এবং ‘বর্ণালী মডেল শিশু নিকেতন’। এছাড়া তিনি কটিয়াদী আদর্শ বিদ্যানিকেতনের সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন অত্যন্ত সুনাম ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে তাঁর অবদান আজও স্মরণীয়।
শুধু শিক্ষকতা ও শিল্পচর্চাই নয়, সামাজিক উন্নয়নেও তিনি ছিলেন সমানভাবে সক্রিয়। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কটিয়াদী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন, সামাজিক সচেতনতা, নাগরিক অধিকার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা জানান, হাবিবুর রহমান বর্ণালীর শিল্পকর্ম, শিক্ষা বিস্তারে অবদান এবং মানবিক মূল্যবোধ আজও কটিয়াদীর মানুষের কাছে অনুকরণীয়। তাঁর হাত ধরে অনেক শিক্ষার্থী শিল্প ও সংস্কৃতির পথে এগিয়ে গেছে।
মৃত্যুর প্রায় এক দশক পরও তাঁর আদর্শ, কর্ম এবং সৃজনশীল চিন্তাধারা নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় সকলের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।














