কুমিল্লা মেডিকেলে গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ২০, পরীক্ষায় ১২ জনের হাম নিশ্চিত; শিশুদের সময়মতো টিকা নেওয়ার আহ্বান চিকিৎসকদের।
কুমিল্লায় হামের উপসর্গে ৬ মাসের শিশুর মৃত্যু, চলতি বছরে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১৩
- আপডেট সময় : ০৯:১৬:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ৫৩ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লা | ১৬ জুলাই ২০২৬ : কুমিল্লায় হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত ছয় মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ল্যাব পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে শিশুটির মৃত্যু হামজনিত ছিল কি না। এদিকে চলতি বছরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মিয়া মঞ্জুর আহমেদ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বাসিন্দা রাব্বি মিয়া গত ১৪ জুলাই মধ্যরাতে হামের উপসর্গ নিয়ে তার ছয় মাস বয়সী মেয়ে খাদিজাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ জুলাই সকালে শিশুটি মারা যায়। আপাতত ঘটনাটি ‘হাম সন্দেহজনক মৃত্যু’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি হামজনিত মৃত্যু কি না।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ২০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ২০ জন সন্দেহভাজন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে ১২ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়েছে। চিকিৎসা শেষে ১৭ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৫ জুলাই পর্যন্ত সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ হাজার ৯৫৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৪০ জনের শরীরে পরীক্ষাগারে হাম নিশ্চিত হয়েছে।
এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ১২ জন এবং পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি বছরে হাম-সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে।
এ ছাড়া এ বছর এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ হাজার ৫০৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ৪৩৪ জন।
অধ্যাপক ডা. মিয়া মঞ্জুর আহমেদ বলেন, শিশুদের হাম প্রতিরোধে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় সময়মতো টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কোনো শিশুর জ্বর, শরীরে লালচে র্যাশ, কাশি, চোখ লাল হওয়া বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকতে হবে এবং সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। সময়মতো চিকিৎসা ও টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে হামজনিত জটিলতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।














