চট্টগ্রাম ০৪:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আধুনিক সকল ফিচার যুক্ত  জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া দৈনিক সারাদেশ ৭১  নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের আবেদনের  জন্য অপেক্ষমান দেশের অন্যতম প্রথম সারির অনলাইন পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য সংবাদদাতা আবশ্যক, বিশেষ সংবাদদাতা (৪),  ক্রাইম রিপোর্টার (৫), স্টাফ রিপোর্টার (১০), বিভাগীয় ব্যুরো (৩) উপজেলা প্রতিনিধি (১০), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (৪),  মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার (সকল জেলা ও উপজেলার জন্য) (১০) ইউনিয়ন প্রতিনিধি (৫)  আবেদনের জন্য সিভি, জাতীয় পরিচয় পত্র, আবেদন পাঠাবেন saradesh71@gmail.com এই মেইলে।
সংবাদ শিরোনামঃ
নান্দাইলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালি নেত্রকোণায় জমি বিরোধে হামলা-হুমকি, নষ্ট করা হলো আমনের চারা শিবচরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি, উঠল ঐক্যের ডাক বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কটিয়াদীতে দুই দফায় র‌্যালি-সমাবেশ কুসরকের নতুন কমিটি প্রকাশ, নেতৃত্বে নাহিদ-জাকারিয়া ওষুধে মেয়াদ শেষ, খাবার তৈরিতে অনিয়ম; খুলনায় বড় অঙ্কের জরিমানা নাগেশ্বরীতে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার নানা আয়োজনে হরিরামপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ৭ হাজার একর জমিতে আখ রোপণের লক্ষ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে কার্যক্রম শুরু বেনাপোল সীমান্তে ভারতীয় শাড়ি-কসমেটিক্সসহ ৫ লাখ ৮১ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

গত বছরের ১৬ জুলাইয়ের সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে গোপালগঞ্জে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের যৌথ টহল; গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চেকপোস্ট ও নজরদারি বৃদ্ধি।

গোপালগঞ্জে ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, ১৬ জুলাইকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার; যৌথ বাহিনীর টহল ও চেকপোস্ট বৃদ্ধি

লুৎফর সিকদার
  • আপডেট সময় : ০৭:২২:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশ ৭১ নিউজ – নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গোপালগঞ্জ | ১৫ জুলাই ২০২৬: গত বছরের ১৬ জুলাই সংঘর্ষের ঘটনাকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে জেলা প্রশাসন। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধ এবং জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল থেকে জেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পাঁচ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

সকাল থেকেই গোপালগঞ্জ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনায় বিজিবির সদস্যরা টহল শুরু করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি, র‌্যাব, জেলা পুলিশ এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা যৌথভাবে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নজরদারি জোরদার করেছেন।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, শুধু জেলা সদর নয়, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও গ্রামীণ অঞ্চলগুলোতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। বিজিবির পাঁচ প্লাটুনের পাশাপাশি র‌্যাব-৬-এর ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্প, জেলা পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত টহল পরিচালনা করছেন।

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, গত বছরের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় রেখে এবার আগাম নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, কেউ যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর একটি পথসভা শেষে ফেরার পথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে সংঘর্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও জড়িয়ে পড়েন। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, উত্তেজনা ও সহিংসতার একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি চালায়।

ওই ঘটনায় পাঁচজন নিহত হন এবং সাংবাদিক, পুলিশ সদস্যসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে জেলা কারাগারের প্রধান ফটকে হামলা ও ভাঙচুরের চেষ্টার ঘটনাও ঘটে। পরবর্তীতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন এবং সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় তাদের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তখন গোপালগঞ্জ জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয় এবং ১৬ জুলাই রাত থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ ছিল।
গত বছরের সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে এবার প্রশাসন আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলার সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনসহ সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

গত বছরের ১৬ জুলাইয়ের সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে গোপালগঞ্জে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের যৌথ টহল; গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চেকপোস্ট ও নজরদারি বৃদ্ধি।

গোপালগঞ্জে ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, ১৬ জুলাইকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার; যৌথ বাহিনীর টহল ও চেকপোস্ট বৃদ্ধি

আপডেট সময় : ০৭:২২:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

গোপালগঞ্জ | ১৫ জুলাই ২০২৬: গত বছরের ১৬ জুলাই সংঘর্ষের ঘটনাকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে জেলা প্রশাসন। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধ এবং জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল থেকে জেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পাঁচ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

সকাল থেকেই গোপালগঞ্জ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনায় বিজিবির সদস্যরা টহল শুরু করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি, র‌্যাব, জেলা পুলিশ এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা যৌথভাবে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নজরদারি জোরদার করেছেন।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, শুধু জেলা সদর নয়, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও গ্রামীণ অঞ্চলগুলোতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। বিজিবির পাঁচ প্লাটুনের পাশাপাশি র‌্যাব-৬-এর ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্প, জেলা পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত টহল পরিচালনা করছেন।

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, গত বছরের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় রেখে এবার আগাম নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, কেউ যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর একটি পথসভা শেষে ফেরার পথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে সংঘর্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও জড়িয়ে পড়েন। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, উত্তেজনা ও সহিংসতার একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি চালায়।

ওই ঘটনায় পাঁচজন নিহত হন এবং সাংবাদিক, পুলিশ সদস্যসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে জেলা কারাগারের প্রধান ফটকে হামলা ও ভাঙচুরের চেষ্টার ঘটনাও ঘটে। পরবর্তীতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন এবং সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় তাদের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তখন গোপালগঞ্জ জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয় এবং ১৬ জুলাই রাত থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ ছিল।
গত বছরের সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে এবার প্রশাসন আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলার সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনসহ সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।