গোপালগঞ্জ | ১৫ জুলাই ২০২৬: গত বছরের ১৬ জুলাই সংঘর্ষের ঘটনাকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে জেলা প্রশাসন। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধ এবং জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল থেকে জেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পাঁচ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
সকাল থেকেই গোপালগঞ্জ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনায় বিজিবির সদস্যরা টহল শুরু করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি, র্যাব, জেলা পুলিশ এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা যৌথভাবে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নজরদারি জোরদার করেছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, শুধু জেলা সদর নয়, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও গ্রামীণ অঞ্চলগুলোতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। বিজিবির পাঁচ প্লাটুনের পাশাপাশি র্যাব-৬-এর ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্প, জেলা পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত টহল পরিচালনা করছেন।
গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, গত বছরের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় রেখে এবার আগাম নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, কেউ যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর একটি পথসভা শেষে ফেরার পথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে সংঘর্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও জড়িয়ে পড়েন। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, উত্তেজনা ও সহিংসতার একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি চালায়।
ওই ঘটনায় পাঁচজন নিহত হন এবং সাংবাদিক, পুলিশ সদস্যসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে জেলা কারাগারের প্রধান ফটকে হামলা ও ভাঙচুরের চেষ্টার ঘটনাও ঘটে। পরবর্তীতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন এবং সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় তাদের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তখন গোপালগঞ্জ জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয় এবং ১৬ জুলাই রাত থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ ছিল।
গত বছরের সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে এবার প্রশাসন আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলার সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনসহ সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।