নির্মাণের ৫-৬ মাসের মধ্যেই ফাটল ও গর্ত; শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, তদন্তের আশ্বাস উপজেলা প্রকৌশলীর
হরিরামপুরে ৫ মাসের মাথায় নতুন পিচঢালাই সড়ক ধসে চলাচলে দুর্ভোগ, দ্রুত সংস্কারের দাবি
- আপডেট সময় : ০৮:৩৫:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ৮৫ বার পড়া হয়েছে

মানিকগঞ্জ | ১৪ জুলাই ২০২৬ : মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার দড়িকান্দি ইউনিয়নের বাহিরচর-বেড়িবাঁধ সংলগ্ন বাহিরচর পূর্বপাড়ার প্রায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন পিচঢালাই সরকারি সড়কের অধিকাংশ অংশ ধসে পড়েছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মাত্র পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় সড়কটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কটি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পর নির্মাণ করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই এর বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেয়। বর্তমানে অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, হ্যালোবাইকসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কের পাশের নদী থেকে ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে মাটি কাটার ফলে সড়কের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও পানি প্রবাহের কারণে রাস্তার বিভিন্ন অংশ ধসে যায় এবং বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, রামকৃষ্ণপুর ভাটিকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ সংলগ্ন অংশে রাস্তার বড় অংশ ভেঙে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাতায়াতকারী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক বলেন, “বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই রাস্তা ব্যবহার করে। রাস্তার বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত সংস্কার না হলে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রাস্তা নির্মাণের সময় নদীর পাশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার কারণে সড়কের মাটি আলগা হয়ে যায়। অতিবৃষ্টিতে সেই দুর্বল অংশগুলো ধসে পড়ে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী মীর মালেক বলেন, “বর্তমানে চলাচল করতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। দ্রুত রাস্তা সংস্কার করা না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত প্রকৌশলগত তদন্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের পরিস্থিতি না হয়, সে জন্য টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এ বিষয়ে হরিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহিনুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আগে অবগত ছিলাম না। আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। বিষয়টি দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”
স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।














