পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে সরকারি খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিল প্রশাসন
ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত লোহাগাড়া, আধুনগরে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ
- আপডেট সময় : ০৯:৪২:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে

দক্ষিণ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আধুনগর ইউনিয়নের ৩৫০টি পরিবারের মাঝে সরকারি ত্রাণ সহায়তার চাল বিতরণ করা হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত সাড়ে ৩ টন চাল বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে আধুনগর ইউনিয়নের নিচু এলাকাগুলোতে বন্যার পানি প্রবেশ করায় বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। অনেক পরিবারের বসতঘর, রান্নাঘর, আসবাবপত্র ও কৃষি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহাম্মাদ নাজিম উদ্দীন। তিনি উপস্থিত থেকে তালিকাভুক্ত প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে সরকারি খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেন।
চেয়ারম্যান মুহাম্মাদ নাজিম উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরীর সহযোগিতা এবং লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ বায়জিদ বিন আখন্দের নির্দেশনায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করে স্বচ্ছতার সঙ্গে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে, যাতে প্রকৃত অসহায় মানুষরা সরকারি সহায়তা পান।
ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন জেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা শওকত আহমদ। তিনি উপস্থিত থেকে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেন। দুর্যোগকালীন সময়ে সরকারি সহায়তা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন লোহাগাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডের উপকারভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আধুনগর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৮টি ওয়ার্ড সাম্প্রতিক বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও গবাদিপশুর খামার।
ত্রাণ পাওয়া পরিবারগুলোর সদস্যরা জানান, বন্যার কারণে কয়েকদিন ধরে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে এবং অনেকের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় সরকারি খাদ্য সহায়তা তাদের জন্য বড় ধরনের সহায়তা হিসেবে এসেছে।
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, বন্যা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সরকারি ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।














