চট্টগ্রাম ১১:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আধুনিক সকল ফিচার যুক্ত  জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া দৈনিক সারাদেশ ৭১  নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের আবেদনের  জন্য অপেক্ষমান দেশের অন্যতম প্রথম সারির অনলাইন পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য সংবাদদাতা আবশ্যক, বিশেষ সংবাদদাতা (৪),  ক্রাইম রিপোর্টার (৫), স্টাফ রিপোর্টার (১০), বিভাগীয় ব্যুরো (৩) উপজেলা প্রতিনিধি (১০), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (৪),  মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার (সকল জেলা ও উপজেলার জন্য) (১০) ইউনিয়ন প্রতিনিধি (৫)  আবেদনের জন্য সিভি, জাতীয় পরিচয় পত্র, আবেদন পাঠাবেন saradesh71@gmail.com এই মেইলে।
সংবাদ শিরোনামঃ
নাগেশ্বরীতে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার নানা আয়োজনে হরিরামপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ৭ হাজার একর জমিতে আখ রোপণের লক্ষ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে কার্যক্রম শুরু বেনাপোল সীমান্তে ভারতীয় শাড়ি-কসমেটিক্সসহ ৫ লাখ ৮১ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ ডবলমুরিং-হালিশহরে মাদক, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্যবস্থা চেয়ে আবেদন রংপুরের নতুন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানকে জেলা কংগ্রেসের ফুলেল শুভেচ্ছা রাণীশংকৈলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত, পতাকা উত্তোলন ও বৃক্ষরোপণ দামুড়হুদায় মটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চোরের মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে হরিরামপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

উজানে বৃষ্টি কমায় স্বস্তি, ৩৫ গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন; ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত

মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, বিপদসীমার নিচে নদীর পানি; আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়ছেন দুর্গত মানুষ

তিমির বনিক
  • আপডেট সময় : ০৪:০৪:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ ৬৩ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশ ৭১ নিউজ – নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজার | ১২ জুলাই ২০২৬: উজানে বৃষ্টিপাত কমে আসায় মৌলভীবাজার জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। জেলার মনু, ধলাই, জুড়ী ও কুশিয়ারা নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে আশ্রয়কেন্দ্র ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়া অধিকাংশ মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। একই সঙ্গে সরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবারসহ ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যা মোকাবিলায় এ পর্যন্ত সরকারি হিসেবে ৯০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলার ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হলেও বন্যার সময় ৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৪ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। বর্তমানে পানি কমে যাওয়ায় অধিকাংশ আশ্রয়কেন্দ্র খালি হতে শুরু করেছে।

গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর ও একামধু এলাকায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ এবং কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকরিয়া এলাকায় বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়। প্রবল স্রোতে বন্যার পানি দ্রুত নিম্নাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাজনগর উপজেলার টেংরা, মনসুরনগর ও রাজনগর সদর ইউনিয়নের অন্তত ২৫টি গ্রাম এবং কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রাম। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫টি গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। তলিয়ে যায় অসংখ্য বসতবাড়ি, গ্রামীণ সড়ক এবং ফসলি জমি।

প্লাবিত এলাকার মধ্যে রয়েছে টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর, হরিপাশা, ইব্রাহীমপুর, কাঁচারী, একামধু, কান্দিরকুল, পণ্ডিতনগর, আকুয়া, সৈয়দনগর, টগরপুর, কোনাগাঁও, ভাঙ্গারহাট, আদিনাবাদ, পাইকপাড়া, নওয়াগাঁও ও গণেশপুর; মনসুরনগর ইউনিয়নের শ্বাসমহল, বকসীকোনা, মালিকোনা, প্রেমনগর ও গোবিন্দশ্রী; এবং রাজনগর সদর ইউনিয়নের গয়ঘর, ডলা, মহাসহস্র ও দত্তগ্রাম।

বন্যার পানির প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে রাজনগরের টেংরা ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামের আশরাফ আলী (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর শুক্রবার সকালে মনু নদীর রিং বাঁধসংলগ্ন এলাকায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও সহায়তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ জানান, ভারী বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের তিনটি স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। তবে উজানে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নদ-নদীর পানি এখন দ্রুত কমছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পথে।

তিনি আরও জানান, ধলাই নদীর একটি ভাঙনস্থল সংস্কারে ভারতের আপত্তি থাকলেও জেলার বিভিন্ন নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় মেরামতের প্রস্তুতি রয়েছে।
বর্তমানে নদীর পানি কমে যাওয়ায় দুর্গত মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নিরূপণে প্রশাসন কাজ করছে। পাশাপাশি পুনর্বাসন কার্যক্রমও ধীরে ধীরে শুরু হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

উজানে বৃষ্টি কমায় স্বস্তি, ৩৫ গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন; ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত

মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, বিপদসীমার নিচে নদীর পানি; আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়ছেন দুর্গত মানুষ

আপডেট সময় : ০৪:০৪:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

মৌলভীবাজার | ১২ জুলাই ২০২৬: উজানে বৃষ্টিপাত কমে আসায় মৌলভীবাজার জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। জেলার মনু, ধলাই, জুড়ী ও কুশিয়ারা নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে আশ্রয়কেন্দ্র ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়া অধিকাংশ মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। একই সঙ্গে সরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবারসহ ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যা মোকাবিলায় এ পর্যন্ত সরকারি হিসেবে ৯০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলার ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হলেও বন্যার সময় ৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৪ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। বর্তমানে পানি কমে যাওয়ায় অধিকাংশ আশ্রয়কেন্দ্র খালি হতে শুরু করেছে।

গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর ও একামধু এলাকায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ এবং কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকরিয়া এলাকায় বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়। প্রবল স্রোতে বন্যার পানি দ্রুত নিম্নাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাজনগর উপজেলার টেংরা, মনসুরনগর ও রাজনগর সদর ইউনিয়নের অন্তত ২৫টি গ্রাম এবং কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রাম। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫টি গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। তলিয়ে যায় অসংখ্য বসতবাড়ি, গ্রামীণ সড়ক এবং ফসলি জমি।

প্লাবিত এলাকার মধ্যে রয়েছে টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর, হরিপাশা, ইব্রাহীমপুর, কাঁচারী, একামধু, কান্দিরকুল, পণ্ডিতনগর, আকুয়া, সৈয়দনগর, টগরপুর, কোনাগাঁও, ভাঙ্গারহাট, আদিনাবাদ, পাইকপাড়া, নওয়াগাঁও ও গণেশপুর; মনসুরনগর ইউনিয়নের শ্বাসমহল, বকসীকোনা, মালিকোনা, প্রেমনগর ও গোবিন্দশ্রী; এবং রাজনগর সদর ইউনিয়নের গয়ঘর, ডলা, মহাসহস্র ও দত্তগ্রাম।

বন্যার পানির প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে রাজনগরের টেংরা ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামের আশরাফ আলী (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর শুক্রবার সকালে মনু নদীর রিং বাঁধসংলগ্ন এলাকায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও সহায়তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ জানান, ভারী বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের তিনটি স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। তবে উজানে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নদ-নদীর পানি এখন দ্রুত কমছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পথে।

তিনি আরও জানান, ধলাই নদীর একটি ভাঙনস্থল সংস্কারে ভারতের আপত্তি থাকলেও জেলার বিভিন্ন নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় মেরামতের প্রস্তুতি রয়েছে।
বর্তমানে নদীর পানি কমে যাওয়ায় দুর্গত মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নিরূপণে প্রশাসন কাজ করছে। পাশাপাশি পুনর্বাসন কার্যক্রমও ধীরে ধীরে শুরু হচ্ছে।