আইসিটি পরীক্ষা শেষে বিক্ষোভ; গেট ভাঙচুর, অধ্যক্ষের কার্যালয়ে হামলা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ
চরফ্যাশন মহিলা কলেজ এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুর, পুলিশি টিয়ার গ্যাসে নিয়ন্ত্রণ
- আপডেট সময় : ০৩:২৯:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে

ভোলা, চরফ্যাশন | ১২ জুলাই ২০২৬ : ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা শেষে হামলা, ভাঙচুর ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা শেষে এ ঘটনা ঘটে।
কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আইসিটি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ না পেয়ে একদল পরীক্ষার্থী ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। পরীক্ষা শেষে প্রায় ৮৮৪ জন পরীক্ষার্থী কেন্দ্র ত্যাগ করার পর দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে প্রায় দুই শতাধিক পরীক্ষার্থী কলেজের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। একপর্যায়ে তারা কলেজ প্রাঙ্গণে ডিম নিক্ষেপ করে এবং উত্তর-পশ্চিম পাশের দুটি গেট ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে।
বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের জানালার কাচসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলার ঘটনায় কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি হুমায়ুন কবির শিকদার, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জাহিদুল ইসলাম রাসেলসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তবে আহতের সংখ্যা সম্পর্কে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
চরফ্যাশন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, পরীক্ষার হলে নকলের সুযোগ না পেয়ে কিছু পরীক্ষার্থী সংঘবদ্ধভাবে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে কেন্দ্রের বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়।
খবর পেয়ে চরফ্যাশন থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র নিরাপদে ডাকঘরে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের প্রশ্ন তুলনামূলক কঠিন হওয়া এবং পরীক্ষার হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কক্ষ পরিদর্শকদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে পরীক্ষার্থীরা বিক্ষোভে নামে। পরবর্তীতে সেই বিক্ষোভ হামলা ও ভাঙচুরে রূপ নেয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, “প্রশ্ন কঠিন হওয়া এবং শিক্ষকদের সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগে কিছু পরীক্ষার্থী অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।”
চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, “পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করতে হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।














