মনু নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপরে; ৩৫টি গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি, চলছে ত্রাণ বিতরণ
মৌলভীবাজারে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু, ভাঙা বাঁধ দিয়ে এখনো নিম্নাঞ্চল প্লাবিত; পানিবন্দি অর্ধলক্ষাধিক মানুষ
- আপডেট সময় : ০৪:৫৯:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ ৬৩ বার পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজার | ১১ জুলাই ২০২৬: মৌলভীবাজারে উজানে বৃষ্টিপাত কমে আসায় জেলার প্রধান নদ-নদীর পানি নামতে শুরু করেছে। তবে মনু নদীর ভাঙা বাঁধ দিয়ে এখনো প্রবল স্রোতে বন্যার পানি নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করায় বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ রয়েছে এবং হাজারো মানুষ দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টায় মনু নদীর পানি বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। অন্যদিকে ধলাই, জুড়ী ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির আভাস মিললেও নিম্নাঞ্চলের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি।
উজানের পাহাড়ি ঢলে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর ও একামধু এলাকায় এবং কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকরিয়া এলাকায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে যায়। এসব ভাঙন দিয়ে বন্যার পানি প্রবল বেগে লোকালয়ে প্রবেশ করে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করেছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় অন্তত ৩৫টি গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে অসংখ্য বসতবাড়ি, গ্রামীণ সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকা এবং ফসলি জমি। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য উঁচু স্থানে কিংবা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে গেছে।
বন্যাকবলিত এলাকায় সরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি সহায়তা বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নদীর পানি আরও কমতে থাকলে ধীরে ধীরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তবে ভাঙা বাঁধ দ্রুত সংস্কার না হলে নতুন করে বৃষ্টিপাত বা উজানের ঢল এলে আবারও পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।














