টানা বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত পার্বত্য এলাকায় চলছে উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও যোগাযোগ পুনরুদ্ধার কার্যক্রম।
ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম, উদ্ধার-ত্রাণে সক্রিয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
- আপডেট সময় : ০৭:৪৯:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ ৫২ বার পড়া হয়েছে

পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলায় টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্থানীয় প্রশাসন, অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ, যোগাযোগ পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ধসের ফলে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রয়োজনীয় প্রকৌশল সরঞ্জাম ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে মাটি ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণের মাধ্যমে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করার কাজ করছেন।
এদিকে ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২২১টি পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবান থেকে ১৪০ জন এবং সাজেকে আটকে পড়া প্রায় ৬০০ জন পর্যটকের মধ্যে প্রথম ধাপে ১৫০ জনকে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট পর্যটকদেরও পর্যায়ক্রমে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এছাড়া বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সেনাবাহিনী বিভিন্ন এলাকায় রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং অন্যান্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি ও বাঙালি পরিবারের মধ্যে চাল, ডাল, তেল, আলুসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে উদ্ধার, ত্রাণ সহায়তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
সংস্থাটি আরও জানায়, দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও জাতীয় সংকটে জনগণের জীবন, সম্পদ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।














