চট্টগ্রাম থেকে দুই বাংলার সাহিত্যাঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত শাম্মী তুলতুল; প্রকাশিত হয়েছে ১৭টি বই, সাহিত্য ও গণমাধ্যমে বহুমাত্রিক কাজ
বাংলা সাহিত্যে বহুমাত্রিক অবদানে আলোচনায় শাম্মী তুলতুল
- আপডেট সময় : ০৪:৫২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬ ৫৪ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের সাহিত্য অঙ্গন থেকে উঠে এসে বাংলাদেশ ও ভারতের বাংলা সাহিত্যজগতে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন কথাসাহিত্যিক শাম্মী তুলতুল। গল্প, উপন্যাস, শিশুসাহিত্য, প্রবন্ধ এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে লেখালেখির মাধ্যমে তিনি পাঠকমহলে পরিচিতি অর্জন করেছেন।
সাহিত্য ও সংস্কৃতিমনস্ক পরিবারে জন্ম নেওয়া শাম্মী তুলতুলের শৈশব থেকেই লেখালেখির প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি হয়। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তাঁর দাদা আব্দুল কুদ্দুস মাস্টার ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন লেখক এবং বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের বাল্যবন্ধু। এছাড়া তাঁর নানী কাজী লতিফা হক বেগমও লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ছোটবেলা থেকেই দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, সাময়িকী ও শিশু-কিশোর পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হতে থাকে। পরবর্তীতে ভারতসহ প্রবাসী বাংলা ভাষাভাষীদের বিভিন্ন প্রকাশনায়ও তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে বলে তিনি জানান।
বর্তমানে তিনি একাধারে লেখক, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, শিশুসাহিত্যিক, রেডিও অনুষ্ঠান পরিচালক, সংবাদ পাঠিকা, আবৃত্তিশিল্পী, অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট, ভয়েস প্রেজেন্টার ও মডেল হিসেবে কাজ করছেন।
বাংলাদেশ ও ভারত মিলিয়ে তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১৭টি বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ‘নরকে আলিঙ্গন’, ‘চোরাবালির বাসিন্দা’, ‘পদ্মবু’, ‘মনজুয়াড়ি’ এবং ‘একজন কুদ্দুস ও কবি নজরুল’ পাঠকমহলে আলোচিত হয়েছে।
শিশুসাহিত্যে তাঁর অবদানও উল্লেখযোগ্য। তাঁর রচিত ‘পিঁপড়ে ও হাতির যুদ্ধ’ গল্প অবলম্বনে দীপ্ত টিভিতে নাট্যরূপ প্রচারিত হয়েছে। এছাড়া ‘লাল শরবত’ নাটক সিটি এফএমে সম্প্রচারিত হয়েছে বলে জানা যায়।
লেখালেখির পাশাপাশি তিনি সামাজিক বিভিন্ন অসঙ্গতি, নারী অধিকার, মানবিক মূল্যবোধ ও সমাজ-বাস্তবতা নিয়ে নিয়মিত লিখে আসছেন। তাঁর ভাষায়, সাহিত্য শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; বরং সমাজ পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।
শাম্মী তুলতুল বলেন, “লেখালেখি আমার কাছে শুধু পেশা নয়, এটি একটি দায়বদ্ধতা। আমি চাই আমার প্রতিটি বই পাঠকদের বিনোদনের পাশাপাশি ইতিবাচক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের বার্তা দিক।”
তিনি আরও বলেন, একজন নারী লেখক হিসেবে নানা সামাজিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হলেও সেসবকে শক্তিতে পরিণত করেই সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন।
বিভিন্ন সাহিত্য ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনি দেশ-বিদেশে একাধিক সম্মাননা লাভ করেছেন বলে জানা গেছে। সর্বশেষ তিনি ‘রবীন্দ্র রত্ন পুরস্কার-২০২৬’ অর্জন করেছেন বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়।
সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি গণমাধ্যমেও তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। সংবাদ পাঠ, আবৃত্তি এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি নিয়মিত সম্পৃক্ত রয়েছেন। সম্প্রতি বেগম রোকেয়া চরিত্রে একটি ম্যাগাজিনের কভার মডেল হিসেবেও তিনি আলোচনায় আসেন।
সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং সামাজিক সচেতনতার সমন্বয়ে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছেন শাম্মী তুলতুল। পাঠকের কাছে মানবিক মূল্যবোধ ও ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছে দেওয়াকেই তিনি তাঁর লেখালেখির মূল লক্ষ্য বলে মনে করেন।














