ট্রান্সফরমারের মালামাল লুটের উদ্দেশ্যে হামলার প্রাথমিক ধারণা, তদন্তে নেমেছে পুলিশ
বগুড়ায় মিলের ভেতর বৃদ্ধ মিলমালিককে হাত-পা বেঁধে হত্যা, ট্রান্সফরমার ভেঙে মালামাল লুট
- আপডেট সময় : ০৪:৫৮:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় নিজস্ব মিলের ভেতরে এক বৃদ্ধ মিলমালিককে হাত, পা ও মুখ বেঁধে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হত্যাকাণ্ডের পর মিলের তিনটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ভাঙচুর করে ভেতরের মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) সকালে উপজেলার নবগঠিত বেতগাড়ী ইউনিয়নের ফেনীগ্রাম ফুলতলা এলাকায় এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। নিহত মোহাম্মদ আলী সরকার (৬৫) ফেনীগ্রাম পূর্বপাড়া এলাকার মৃত কছির উদ্দিন সরকারের ছেলে এবং স্থানীয়ভাবে একজন মিলমালিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো রোববার (৫ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাতের খাবার শেষে তিনি বাড়ির পাশের নিজস্ব মিলে ঘুমাতে যান। সোমবার সকাল ৭টার দিকে পার্শ্ববর্তী ডাবইর গ্রামের আতোয়ার নামে এক ব্যক্তি মরিচ ভাঙানোর জন্য মিলে গিয়ে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয় ভ্যানচালক আব্দুল আজিজকে বিষয়টি জানান।
পরে আব্দুল আজিজ নিহতের বাড়িতে খবর দিলে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মিলের পেছনের দরজা খোলা দেখতে পান। ভেতরে ঢুকে তারা চৌকির ওপর মোহাম্মদ আলী সরকারকে হাত, পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার মাথার পেছনে ও মুখে রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন ছিল।
একই সময় মিলের তিনটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ভাঙচুর করা অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রান্সফরমারের ভেতরের মূল্যবান তামাসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ লুট করতেই দুর্বৃত্তরা এ হামলা চালায়।
খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুজ্জামান জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে ট্রান্সফরমার চুরির উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা মিলে প্রবেশ করেছিল। মিলমালিক তাদের চিনে ফেলতে পারেন—এমন আশঙ্কায় তাকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত চোর চক্রকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।














