বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের অভিযানে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ; বাসি খাবার সংরক্ষণসহ বিভিন্ন অনিয়মে তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা।
বগুড়ায় ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান: শতাধিক অবৈধ স্থাপনা অপসারণ, তিন প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা
- আপডেট সময় : ০৮:০১:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে

বগুড়া | ৬ জুলাই ২০২৬: বগুড়া শহরের যানজট কমানো, পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং নগরীর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে বগুড়া সিটি কর্পোরেশন।
অভিযানে শহরের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। একই সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তা ও ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর ১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত বগুড়া শহরের সাতমাথা, থানা মোড়, সেলিম হোটেল এলাকা, কাঁঠালতলা, রাজাবাজার, ফতেহ আলী ব্রিজ, গালাপট্টি ও হোটেলপট্টি এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পপি খাতুনের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ফুটপাত ও সড়কের ওপর অবৈধভাবে নির্মিত দোকান, অস্থায়ী স্থাপনা ও দখলকৃত অংশ অপসারণ করা হয়। এতে দীর্ঘদিনের দখলদারিত্বের কারণে সৃষ্ট যানজট নিরসন এবং পথচারীদের চলাচলে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অভিযান চলাকালে ফতেহ আলী বাজার এলাকার প্রিয়াঙ্কা দই ঘর-এ পচা ও বাসি রসমালাই সংরক্ষণের দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া ফতেহ আলী ফুড গার্ডেন-এ বাসি খাবার সংরক্ষণের দায়ে ৫ হাজার টাকা এবং হোটেলপট্টি এলাকার কাফেলা হোটেল-কে মূল্যতালিকা প্রদর্শন ও ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত অনিয়মের দায়ে আরও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পপি খাতুন জানান, বগুড়া শহরকে যানজটমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখতে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান ও মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে। অবৈধভাবে ফুটপাত ও সড়ক দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দ করা কাঁচা ফল ও সবজি তালিকা প্রস্তুত করে বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে শহরের সব অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হবে।
এছাড়া বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নিয়োগ সম্পন্ন হলে তারা ট্রাফিক পুলিশের সহায়ক হিসেবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে দায়িত্ব পালন করবেন এবং ফুটপাত পুনরায় দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত নজরদারি করবেন।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, এ ধরনের ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকলে বগুড়া শহরে যানজট কমবে, পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে এবং নগর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।














