সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের দাবি
তেঁতুলিয়ায় ইউএনও’র বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ দাবি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন ও তদন্তের দাবি
- আপডেট সময় : ০৭:৪৭:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আফরোজ শাহীন খসরুর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ঘুষ গ্রহণের অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমের সামনে তেঁতুলিয়া উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবরিনা আফরিন বলেন, গত ২৯ জুন বিকেলে একজন নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে ইউএনও’র বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি, অভিযোগটি মিথ্যা এবং ইউএনও এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মিথ্যা অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাজমুল হক বলেন, একটি সাজানো ও ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে একজন সরকারি কর্মকর্তার সম্মান ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানান।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শওকত আলী বলেন, তেঁতুলিয়ায় কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জনগণের আস্থা নিয়ে কাজ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগ কর্মপরিবেশে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তাই নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান তিনি।
২ নম্বর তিরনইহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, গত দুই বছরে ইউএনও’র সঙ্গে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে কাজ করার অভিজ্ঞতায় তিনি কখনো অনিয়মের প্রমাণ পাননি। অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের আহ্বান জানান তিনি।
সুজন তেঁতুলিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক এম এ বাসেত বলেন, ইউএনও একজন সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। অভিযোগটি পরিকল্পিত কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া উচিত।
মানববন্ধনে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাজমুল হক, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শওকত আলী, কৃষি কর্মকর্তা সাবরিনা আফরিন, এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মামুন কবির, সমাজসেবা কর্মকর্তা আবু তাহের, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মিথুন চন্দ্র রায়, তিরনইহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ঘুষের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।














