কলাপাড়ায় আল আরাফাহ এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, নিখোঁজ ক্যাশিয়ারকে ঘিরে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন
কলাপাড়ায় ব্যাংকিং কেলেঙ্কারির অভিযোগ, নিখোঁজ ক্যাশিয়ার নিয়ে রহস্য ঘনীভূত
- আপডেট সময় : ০৯:৩৫:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ ৬৭ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা বাজারে অবস্থিত আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং পাখিমারা আউটলেটে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে শাখার ক্যাশিয়ার রিয়াদুল ইসলাম ইউসুফের বিরুদ্ধে। তবে এ অভিযোগকে একপাক্ষিক ও গভীর ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছে তার পরিবার।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল ৪টায় কুয়াকাটা রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রিয়াদুল ইসলাম ইউসুফের মা মোছা. তহমিনা।
তিনি দাবি করেন, তার ছেলে গত ২০ জুন ২০২৬ থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। ছেলের নিখোঁজ হওয়ার পর কলাপাড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তহমিনা বলেন, রিয়াদুল ইসলাম ইউসুফ প্রতিদিনের ব্যাংকিং লেনদেন ও নগদ হিসাব সংশ্লিষ্ট শাখা ব্যবস্থাপকের কাছে নিয়ম অনুযায়ী বুঝিয়ে দিতেন। তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগেই শুধুমাত্র তার ছেলেকে দায়ী করা ন্যায়সঙ্গত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
পরিবারের দাবি, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও গ্রাহকদের পক্ষ থেকে সার্ভার সমস্যার যে দাবি করা হচ্ছে, সেটি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং ব্যাংকিং নীতিমালার আলোকে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ব্যাংকের ভল্ট বা লকারের চাবি সাধারণত শাখা ব্যবস্থাপক ও ক্যাশিয়ার যৌথভাবে সংরক্ষণ করেন। এছাড়া চেক অনুমোদনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপকের অনুমোদন এবং বিভিন্ন লেনদেনে গ্রাহকের ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের বিষয়টি বিদ্যমান থাকায় এককভাবে কোনো ক্যাশিয়ারের পক্ষে বড় ধরনের অর্থ আত্মসাৎ করা সম্ভব কি না, তা তদন্তে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে পাখিমারা আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট আউটলেটের এজেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান আইয়ুব আলী শরীফ বলেন, “এ ঘটনায় ব্যাংকের দুইজন কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। একজন কর্মকর্তা বর্তমানে নিখোঁজ থাকায় তার নামে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অপরদিকে, পাখিমারা শাখার অপারেশন ম্যানেজার রাহাত ইসলাম বলেন, অর্থ আত্মসাতের ঘটনার বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, তিনি তা মেনে নেবেন।
রিয়াদুল ইসলাম ইউসুফের পরিবারের দাবি, ঘটনার আগে থেকেই তিনি নিখোঁজ রয়েছেন এবং তার নিরাপত্তা নিয়ে পরিবার চরম উদ্বেগে রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তার মা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ছেলেকে উদ্ধার এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।














