প্রতি বর্গফুট ভাড়া ১৫ টাকা থেকে ৮০ টাকায় নির্ধারণের প্রতিবাদে তিলকপুরে বিক্ষোভ; দাবি না মানলে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে রেলওয়ে দোকানঘরের ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন, ভাড়া না দেওয়ার হুঁশিয়ারি ব্যবসায়ীদের
- আপডেট সময় : ০৪:৫৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

জয়পুরহাট | ৩০ জুন ২০২৬ : জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকার দোকানঘরের ভাড়া কয়েকগুণ বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় তারা ভাড়া না দেওয়ার পাশাপাশি বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১১টায় তিলকপুর বণিক সমিতির ব্যানারে তিলকপুর রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে রেলওয়ের জায়গায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন দোকানঘরের মালিক, ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তিলকপুর রেলওয়ে স্টেশনের দোকানঘরের ভাড়া প্রতি বর্গফুট ১৫ টাকা নির্ধারিত ছিল। কিন্তু গত বছরের ৮ জুলাই জারি করা একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে হঠাৎ করে প্রতি বর্গফুট ভাড়া ৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ফলে এক লাফে প্রতি বর্গফুটে ৬৫ টাকা ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক সংকটে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
বক্তারা আরও জানান, ভাড়া কমানোর দাবিতে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার লিখিত আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। তাই বাধ্য হয়ে তারা মানববন্ধনের মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছেন। দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে ভাড়া পরিশোধ বন্ধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন তিলকপুর বণিক সমিতির সভাপতি আবু খায়ের মো. সাখাওয়াত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা রুস্তম আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক, সাবেক চেয়ারম্যান ও সমিতির সদস্য আজাহার আলী দুলু, সমিতির সদস্য ও বিএনপি নেতা মামুনুর রশিদ এবং জামায়াত নেতা ও সমিতির সদস্য নজরুল ইসলাম।
তিলকপুর বণিক সমিতির সভাপতি আবু খায়ের মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “উপজেলা পর্যায়ের অনেক রেলস্টেশনেও দোকানঘরের ভাড়া এত বেশি নয়। অথচ ইউনিয়ন পর্যায়ের তিলকপুর স্টেশনে একবারেই প্রতি বর্গফুটে ৬৫ টাকা ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। আমরা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছি। কোনো প্রতিকার না পেয়ে আজ মানববন্ধন করেছি। ভাড়া কমানো না হলে আমরা দোকানভাড়া দেব না এবং প্রয়োজন হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করবো।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিলকপুর রেলস্টেশন এলাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ের জায়গায় প্রায় ৩০০টিরও বেশি দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ভাড়া বৃদ্ধি কার্যকর হলে এর প্রভাব সরাসরি শত শত ব্যবসায়ী ও তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের জীবিকায় পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যবসায়ী ময়নুল ইসলাম বলেন, “আমরা দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করি। রেলওয়ে ভাড়া বাড়ালে দোকান মালিকরাও আমাদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া নেবেন। এতে ব্যবসা পরিচালনা এবং সংসার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।”
ব্যবসায়ীরা দ্রুত ভাড়া পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।














