প্রকাশিত সংবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, সরকারি নথি উপস্থাপন করে সম্মানহানির অভিযোগ; মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান
গোপালগঞ্জে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ আখ্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি মোশারেফ হোসেন মোল্লার
- আপডেট সময় : ১০:০৯:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

গোপালগঞ্জ | ২১ জুন ২০২৬: নিজেকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে গোপালগঞ্জে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারেফ হোসেন মোল্লা। রবিবার (২১ জুন) সকালে গোপালগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। পরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারেফ হোসেন মোল্লা।
তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তাঁকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দাবি করেন, তিনি একজন স্বীকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর মুক্তিযোদ্ধা নম্বর ০১৩৫০০০৫০৯৪ এবং লাল মুক্তিবার্তা নম্বর ১০৯০১০২৭৮। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেটভুক্ত তালিকায়ও তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। নিজের দাবির পক্ষে তিনি মুক্তিবার্তা, মন্ত্রণালয়ের গেজেট, মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়পত্র, স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদপত্রসহ বিভিন্ন সরকারি নথিপত্র উপস্থাপন করেন।
মোশারেফ হোসেন মোল্লা বলেন, ২০২১ সালে মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্তির জন্য আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত একটি অসম্পূর্ণ তালিকার তথ্যকে ভিত্তি করে তাঁকে নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। অথচ গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সরকারি মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে।
তিনি আরও জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ও তাঁর ছোট ভাই ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং পরে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তাঁদের পরিবারের একাধিক সদস্য মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সেই ইতিহাস উপেক্ষা করে তাঁকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও সম্মানহানিকর বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মোশারেফ হোসেন মোল্লা অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রকাশের আগে তাঁর বক্তব্য নেওয়া হয়নি। এমনকি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, জেলা প্রশাসন কিংবা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও তথ্য যাচাই করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং তাঁর মানহানির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
পরে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর কাছে চার দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারাও প্রকাশিত তথ্যের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন তারা।














