অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড; দাউদকান্দি থেকে গ্রেপ্তার দুই যুবক, উদ্ধার ছিনতাইকৃত অটোরিকশা
কুমিল্লায় ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, অটোরিকশা চালক হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ২
- আপডেট সময় : ০৯:৪৯:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লা | ২১ জুন ২০২৬: কুমিল্লার মুরাদনগরে অটোরিকশা চালক মাহবুব আলম ওরফে মাসুম (৩২) হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত দুই মূল ঘাতককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ও ছিনতাইকৃত অটোরিকশাও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন বিকেলে মুরাদনগর উপজেলার বাসিন্দা মাহবুব আলম ওরফে মাসুম তার অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। রাত ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলার পর থেকে তিনি নিখোঁজ হন। পরদিন ২০ জুন সকালে পরিবারের পক্ষ থেকে মুরাদনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
একই দিন সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উনকী ইউনিয়নের বেলাবাড়ি গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকায় একটি টিনশেড ঘরের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় মাহবুব আলমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের মাথা, চোখ এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাঞ্ছারামপুর বাজার তদন্ত কেন্দ্র এবং বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদন্ত ও অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তদন্ত চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, নিহতের অটোরিকশা বিক্রির চেষ্টা চলছে। এরপর অভিযান চালিয়ে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দক্ষিণ টিলি এলাকা থেকে মো. নাঈম ইসলাম (২৩) নামে এক যুবককে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাঈম হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাইকৃত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয় এবং অপর সহযোগী আয়মান সরকার (২০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্যমতে, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মাহবুব আলমকে হত্যা করা হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।














