মধুপুরের টেলকি জলই গ্রামে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা; বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসরোধে মৃত্যুর প্রাথমিক ধারণা
টাঙ্গাইলে ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে সেপটিক ট্যাংকে পড়ে বাবা-ছেলেসহ ৪ জনের মৃত্যু
- আপডেট সময় : ০৪:৪৪:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ ১৩০ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইল | ২০ জুন ২০২৬ : টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকে পড়ে যাওয়া ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে বাবা-ছেলেসহ চারজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার টেলকি জলই গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— জলই গ্রামের গ্রাব্রিয়েল নকরেক (৪৫), তার ছেলে রতন নকরেক (২৫), বাবলু হাদিমা (৩৫) এবং নেইমার ম্রং (১০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে একটি ছাগল পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে পড়ে যায়। ছাগলটিকে উদ্ধার করতে প্রথমে গ্রাব্রিয়েল নকরেক ট্যাংকের ভেতরে নামেন। কিছুক্ষণ পরও তিনি কোনো সাড়া না দিলে তাকে উদ্ধার করতে একে একে আরও তিনজন নিচে প্রবেশ করেন। কিন্তু তারাও আর বাইরে ফিরে আসতে পারেননি।
খবর পেয়ে মধুপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। পরে ট্যাংকের ভেতর থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলুর হক জানান, ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণে শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংক, কূপ বা বন্ধ স্থানে হাইড্রোজেন সালফাইড, মিথেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস জমে থাকতে পারে। যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া এমন স্থানে প্রবেশ করলে প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে।














