বিনোদপুর বাজারে আতঙ্ক, ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির দাবি; জড়িতদের শনাক্তে পুলিশের অভিযান
রাজশাহীর বিনোদপুরে দুই রেস্তোরাঁয় হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ, ককটেল বিস্ফোরণে পুলিশ সদস্য আহত
- আপডেট সময় : ১১:১২:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী | ২০ জুন ২০২৬: রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানাধীন বিনোদপুর বাজারে দুটি জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ ‘বাংলা টিফিন’ ও ‘বঙ্গভোজ’-এ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২০ জুন) রাত ৯টার দিকে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলার সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একটি রেস্তোরাঁর কর্মচারীর সঙ্গে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে এক ব্যক্তির কথা কাটাকাটির জেরে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে একদল হামলাকারী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ‘বাংলা টিফিন’ ও ‘বঙ্গভোজ’ রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। একই সঙ্গে ক্যাশবাক্স ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুটপাটের অভিযোগও ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে একাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। বিকট শব্দে পুরো বাজার এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যবসায়ীরা দ্রুত দোকানপাট বন্ধ করে দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীদের ছোঁড়া ককটেলের আঘাতে এক পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও রেস্তোরাঁ মালিকদের দাবি, হামলায় রেস্তোরাঁ দুটির আসবাবপত্র, ফ্রিজ, গ্লাস, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও অন্যান্য মালামালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি নগদ অর্থ লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। তাদের হিসাবে এ ঘটনায় প্রায় ২০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
‘বাংলা টিফিন’ ও ‘বঙ্গভোজ’-এর মালিক মোর্শেদ শাকিল বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠানে গ্রাহকসেবার বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একটি ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন ভয়াবহ হামলা ও তাণ্ডব আমরা কল্পনাও করিনি। আমরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কবির বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ককটেল বিস্ফোরণে একজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
এদিকে ঘটনার পর বিনোদপুর বাজার এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।














