৪০ লাখ টাকা পাওনা ফেরত চাইতে গিয়ে হামলা, শ্লীলতাহানি ও মোবাইলে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ; প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪০ লাখ টাকা পাওনা চাওয়ায় নারীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ, প্রাণনাশের হুমকি; প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন
- আপডেট সময় : ০৩:২৭:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ | ১৯ জুন ২০২৬ : চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ৪০ লাখ টাকা পাওনা ফেরত চাইতে গিয়ে নারীদের শ্লীলতাহানি, শারীরিক নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের একটি অফিসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা লিখিত বক্তব্য ও মৌখিক অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৪০ লাখ টাকা পাওনা ফেরত পাওয়ার জন্য তারা বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। তবে অভিযুক্তরা টাকা পরিশোধ না করে উল্টো তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় পরিবারের নারীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে বাধা দিতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিয়মিত প্রাণনাশ, খুন ও গুমের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারটির সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত হিসেবে এনজিও মালিক মো. কামরুজ্জামান হাসান, তার ভাই মো. শাহাদাত হোসেন, আরিফ এবং মো. আক্তারুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়। তাদের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নে বলে জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভুক্তভোগী পরিবারের নারীরা সাংবাদিকদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা অভিযোগ করেন, প্রকাশ্যে তাদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে পুরো পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। এ কারণে তারা নিজেদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা আশঙ্কা করছেন, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ না হলে যেকোনো সময় আরও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার, আইনের আওতায় আনা এবং তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কামরুজ্জামান হাসানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামূল হোসাইন বলেন, “বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, অভিযোগগুলো ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে।














