অক্সিজেন নয়ারহাটে ভবনে নিয়ে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ; গুরুতর আহত সাংবাদিককে দেখতে হাসপাতালে সাংবাদিক নেতারা
চট্টগ্রামের বায়েজিদে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক রাজীব আহমেদের ওপর হামলার অভিযোগ, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি
- আপডেট সময় : ০১:০৭:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ ২৮১ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম | ১৮ জুন ২০২৬ :
চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন অক্সিজেন নয়ারহাট এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক রাজীব আহমেদ।
গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আহত রাজীব আহমেদ অনলাইন নিউজ পোর্টাল সারাদেশ ৭১-এর চট্টগ্রাম বিভাগের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক রাজীব আহমেদের অভিযোগ, বুধবার (১৭ জুন) বিকেল আনুমানিক ৪টা ৩৫ মিনিটে তাকে অক্সিজেন নয়ারহাট এলাকার গায়েবি মসজিদের পাশের একটি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকে অবস্থানরত ৭-৮ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল তার ওপর হামলা চালায়।
তিনি জানান, হামলাকারীরা লোহার পাইপ ও হকি স্টিক দিয়ে তার হাত ও দুই পায়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর জখম করে এবং পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দিতে চাইলে ভাগ্যক্রমে পেটের একপাশ দিয়ে চলে যায়। একপর্যায়ে তার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পিস্তলের বাট দিয়ে তার মুখে আঘাত করা হয়। এতে তার একটি দাঁত ভেঙে যায় বলে তিনি দাবি করেন।
ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, গুরুতর আহত ও মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে অক্সিজেন নাগরিক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
সাংবাদিক রাজীব আহমেদ দাবি করেন, অভিযুক্ত বাপ্পি এলাকার একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশের কারণে তিনি বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও চাপের মুখে ছিলেন। সর্বশেষ সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই তার ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন।
ঘটনার পর সাংবাদিক রাজীব আহমেদের পরিবার বায়েজিদ বোস্তামী থানায় গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরুল করিম অভিযোগটি মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা করেন। পরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মামলার এজাহার গ্রহণের নির্দেশ দেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
পরিবারের দাবি, অভিযোগে উল্লেখিত অভিযুক্ত বাপ্পিকে আটক করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক মামলা চলমান রয়েছে এবং তিনি সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আহত সাংবাদিকের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান চট্টগ্রাম ইউনাইটেড প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং সারাদেশ ৭১-এর সম্পাদক ও প্রকাশক রাজু আহমেদ। তারা আহত সাংবাদিকের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিক ও সংগঠক শফিকুল ইসলাম বলেন,
“সাংবাদিক রাজীব আহমেদ আমাদের সংগঠনের সদস্য না হলেও আমরা চট্টগ্রাম ইউনাইটেড প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সব সময় নির্যাতিত সাংবাদিকদের পাশে থাকবো। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের ওপর হামলার বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।”
সারাদেশ ৭১-এর সম্পাদক ও প্রকাশক এবং চট্টগ্রাম ইউনাইটেড প্রেসক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ বলেন,“একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা মানে শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, এটি সত্য, ন্যায়বিচার ও স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর আঘাত। যারা সমাজের অন্যায়, অপরাধ ও মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কাজ করেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সাংবাদিক রাজীব আহমেদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন,“সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সত্য প্রকাশ বন্ধ করা যাবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে এবং গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”
সাংবাদিক সমাজের নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আহত সাংবাদিক রাজীব আহমেদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
তাদের মতে, সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলা শুধু একজন সংবাদকর্মীর ওপর আঘাত নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা, সত্য প্রকাশ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। তাই ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা সময়ের দাবি।














