উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ১৩ সেকশনে প্রায় ১,৭০০ অস্থায়ী নিয়োগের অভিযোগ; তদন্ত দাবি চাকরিপ্রত্যাশী ও সচেতন মহলের
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েতে ১,৭০০ অস্থায়ী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ: নিয়োগ বাণিজ্যে কোটি টাকার লেনদেনের দাবি
- আপডেট সময় : ১০:৩৬:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ ৭৯ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী | ১১ জুন ২০২৬ : বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো ধরনের উন্মুক্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা বা স্বচ্ছ বাছাই প্রক্রিয়া ছাড়াই ১৩টি সেকশনে প্রায় ১ হাজার ৭০০ জন অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ হোসেন মাসুমের অধীন বিভিন্ন দপ্তরে একাই ৭৫৮ জন অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় রেলওয়ের অভ্যন্তরে ও বাইরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রেলওয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিভিন্ন প্রকৌশল বিভাগে দ্রুতগতিতে এই নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সূত্রমতে, বিভাগীয় প্রকৌশলী (পাকশী-১) কার্যালয়ে ২৮১ জন, বিভাগীয় প্রকৌশলী (পাকশী-২) কার্যালয়ে ২৭৫ জন, বিভাগীয় প্রকৌশলী (লালমনিরহাট) কার্যালয়ে ১৭৩ জন, সেতু প্রকৌশলী (পাকশী) কার্যালয়ে ১৩ জন, সৈয়দপুরের সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলীর অধীনে ১০ জন এবং প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে ৬ জনকে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, গেটম্যান, ওয়েম্যানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হলেও এ বিষয়ে কোনো উন্মুক্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বহু যোগ্য প্রার্থী আবেদন করার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন।
কয়েকজন ভুক্তভোগী প্রার্থী অভিযোগ করে বলেন, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। বরং একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, নিয়োগপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে জনপ্রতি কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ের কিছু অস্থায়ী নিয়োগ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে তদবির ও আর্থিক লেনদেনের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, যা মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ হোসেন মাসুম আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে পর্যালোচনা চলছে এবং বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চাকরিপ্রত্যাশী ও সচেতন নাগরিকদের একটি অংশ মনে করেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাত হিসেবে বাংলাদেশ রেলওয়েতে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। তারা পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হলে রেলওয়ের নিয়োগ ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।




















