মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে ভাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সংঘর্ষ, আহত পুলিশ সদস্য; এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন
ভৈরবে মাইক্রোবাস ভাড়া নিয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ: মহাসড়ক অবরোধ, দোকানপাট ভাঙচুর-লুটপাট; এসপির অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
- আপডেট সময় : ০৯:০৪:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে

ভৈরব, কিশোরগঞ্জ | ১১ জুন ২০২৬ : কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে গাড়ি ভাড়া নিয়ে তুচ্ছ বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় মহাসড়ক অবরোধ, দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,গতকাল বুধবার (১০ জুন) বিকেলে ভৈরব উপজেলার একটি মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে গাড়ি ভাড়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয় পক্ষের লোকজন ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে।
পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে বিকেলের দিকে উভয় পক্ষের কয়েক হাজার মানুষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবস্থান নেয়। ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে বিক্ষুব্ধ লোকজন প্রতিপক্ষের বেশ কয়েকটি দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। ভাঙচুরের পাশাপাশি একাধিক স্থানে লুটপাটের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁর নেতৃত্বে পুলিশ সংঘর্ষে জড়িতদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে সীমিত পরিসরে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়।
পুলিশের অভিযানের পর অবরোধকারীরা মহাসড়ক ছেড়ে গেলে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
ভৈরব থানা পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্তও শুরু হয়েছে।














