আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত নারীকে গ্রেফতার; ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ
মণিরামপুর থানার বিরুদ্ধে অপপ্রচার: আদালতের পরোয়ানাভুক্ত নারী আসামি গ্রেফতার নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৯:০৯:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে

যশোরের মণিরামপুরে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত এক নারী আসামিকে গ্রেফতার করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। মণিরামপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, প্রকৃত ঘটনা বিকৃত করে পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে সাইবার টিম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের একটি চেক জালিয়াতি মামলায় আদালত কর্তৃক জারিকৃত গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে শনিবার (৭ জুন) পৌর শহরের মোহনপুর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী লিলি বেগমকে গ্রেফতার করে মণিরামপুর থানা পুলিশ।
গ্রেফতারের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কয়েকটি মেটা ভেরিফায়েডসহ বিভিন্ন আইডি থেকে দাবি করা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের উপজেলা সভাপতি মাহামুদুল হাসান রকিকে না পেয়ে তার মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এসব পোস্টে পুলিশ প্রশাসনের সমালোচনা করা হয় এবং বিভিন্ন মন্তব্যের মাধ্যমে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়।
তবে মণিরামপুর থানা পুলিশ বলছে, গ্রেফতারকৃত নারী নিজেই মামলার এজাহারভুক্ত ও আদালতের পরোয়ানাভুক্ত আসামি। তার বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশনা থাকায় নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ঘটনার পর কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিক সামাজিক মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরাও যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য প্রচার না করার অনুরোধ জানান।
মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু সাঈদ বলেন, “আদালতের পরোয়ানা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ওই নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার ও অপপ্রচারের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অপপ্রচারে ব্যবহৃত আইডিগুলো শনাক্তে পুলিশের সাইবার ইউনিট কাজ করছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যাচাইহীন তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। তাই তথ্য প্রকাশের আগে যথাযথ যাচাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সচেতন নাগরিকরা।



















