অস্ত্র উদ্ধারকে কেন্দ্র করে পুলিশের দাবি ও পরিবারের ‘পরিকল্পিত ফাঁসানো’র অভিযোগে দ্বন্দ্ব, তদন্তের দাবি জোরালো
ঈদগড়ে অস্ত্র মামলায় বাসচালক গ্রেপ্তার ঘিরে বিতর্ক, তদন্তে নতুন মোড়
- আপডেট সময় : ০২:৩৬:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নে আলোচিত একটি অস্ত্র মামলায় বাসচালক মোহাম্মদ তারেককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের দাবি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তারেকের হেফাজত থেকে একটি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে ঘটনাটিকে “পরিকল্পিতভাবে সাজানো” বলে দাবি করা হচ্ছে।
গত ১৭ মে গভীর রাতে ঈদগড় ইউনিয়নের কোদালিয়াকাটা এলাকায় একটি বসতঘরে অভিযান চালায় পুলিশ। মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযানে একটি দেশীয় একনলা কাঠের বাটযুক্ত এলজি ও দুটি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। এরপর রামু থানায় অস্ত্র আইনে মামলা (জিআর-৩৪৫/২০২৬) রুজু করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, মোহাম্মদ তারেক একজন সাধারণ পরিবহন শ্রমিক ও বাস-ট্রাক চালক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তার বিরুদ্ধে আগে কখনো কোনো ধরনের সন্ত্রাসী বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ শোনা যায়নি। ফলে অস্ত্র উদ্ধারের দাবি ঘিরে এলাকায় বিস্ময় ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের মধ্যে নাজিমুদ্দিন বলেন, ঘটনার দিন তারেক শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন এবং গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। অন্যদিকে স্থানীয় মাওলানা আমির হোসেনও দাবি করেন, তারেকের বিরুদ্ধে অস্ত্র রাখার অভিযোগ অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাস কেনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি চক্রের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। সেই বিরোধের জেরেই তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার স্ত্রী রিনা আক্তার। তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার দিন এক নারী একাধিকবার তাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করেন, যা তদন্তের দাবি রাখে।
অন্যদিকে পুলিশের বক্তব্যে বলা হয়েছে, মাদকের সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং পরে তল্লাশিতে অস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। রামু থানার ওসি জানান, “কার বাড়িতে কী আছে তা আগে থেকে জানা সম্ভব নয়, তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।”
তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে কাজ চলছে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে দুই ধরনের অবস্থান তৈরি হয়েছে—একদিকে পুলিশের অস্ত্র উদ্ধারের দাবি, অন্যদিকে পরিবারের ‘ফাঁসানোর’ অভিযোগ। ফলে আলোচিত এই মামলার প্রকৃত সত্য জানতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।














