ছয় দফা দাবিতে আন্দোলন, স্থগিত হতে পারে অস্ত্রোপচার ও ব্যাহত হচ্ছে রোগীসেবা
শেবাচিম হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি, ছয় দফা দাবিতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত
- আপডেট সময় : ০৯:১৬:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬ ৬৭ বার পড়া হয়েছে

ছয় দফা দাবিতে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। রবিবার (৭ জুন) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির কারণে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক একটি প্রস্তাবনায় এফসিপিএস (FCPS) অধ্যয়নরত চিকিৎসকদের বেতন কাঠামোতে বৈষম্য তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে দুই বছর উপজেলা পর্যায়ে পদায়নের প্রস্তাব চিকিৎসকদের পেশাগত উন্নয়ন ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ইন্টার্ন চিকিৎসক তানভীর রেজা বলেন, “চিকিৎসকদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মজীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের নিরাপত্তাহীনতা দিন দিন বাড়ছে। তাই যৌক্তিক দাবিগুলো আদায়ে আমরা কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছি।”
আন্দোলনকারীরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলেও দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় চিকিৎসক সমাজে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
এফসিপিএস পার্ট-১ উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়নসংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাব বাতিল;
বিএমইউ ও বিসিপিএস পরীক্ষার ফি ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকার মধ্যে নির্ধারণ;
বিসিএসে চিকিৎসকদের বয়সসীমা ৩৪ বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি;
স্বাস্থ্যকর্মী নিরাপত্তা আইন দ্রুত প্রণয়ন;
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা ভাতা নির্ধারণ;
ট্রেইনি চিকিৎসকদের জন্য নবম গ্রেড সমমানের বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন।
এদিকে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের প্রথম থেকে পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে ক্লাস বর্জন ও পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে মিড-লেভেল চিকিৎসকদেরও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. একেএম মশিউল মুনীর বলেন, হাসপাতালে প্রায় ২২০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। তাদের আকস্মিক কর্মবিরতির ফলে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক নির্ধারিত অস্ত্রোপচার সময়মতো সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টদের মতে, চিকিৎসকদের দাবি ও স্বাস্থ্যসেবার স্বাভাবিক কার্যক্রম—দুই দিক বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সমাধানে পৌঁছানো জরুরি।














